• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭ রাত

মাংস কম খেলে কমবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা!

  • প্রকাশিত ০৪:৫৫ বিকেল আগস্ট ১০, ২০১৯
মাংস
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ- আইপিসিসি। ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমাতে হলে মাংস খাওয়াও কমাতে হবে, এমন তথ্য দিয়েছেন জলবায়ু বিষয়ে কাজ করা জাতিসংঘের বিজ্ঞানীরা

বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমাতে হলে মাংস খাওয়াও কমাতে হবে। এমন তথ্য দিয়েছেন জলবায়ু বিষয়ে কাজ করা জাতিসংঘের বিজ্ঞানীরা

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ- আইপিসিসি।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর গ্রিন হাউস গ্যাসের এক চতুর্থাংশ আসে জমির ব্যবহার থেকে। যার বেশিরভাগই হয় মাংস উৎপাদনকারী গবাদি পশুর খামারের কারণে এমনটাই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাংস জাতীয় খাবারের চাহিদা বাড়ার ফলে জমি থেকে বেশি মাত্রায় কার্বন বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে বায়ুমণ্ডল আরও বেশি উষ্ণ হচ্ছে। আর এ কারণেই গবাদি পশুর খামার কমাতে খাবার হিসেবে মাংস খাওয়া কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জাতিসংঘের বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ বেশি করে উদ্ভিদজাত খাদ্য গ্রহণ শুরু করলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকারক প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। তারা হুঁশিয়ার করেছেন, মাংস এবং দুগ্ধজাত খাদ্য তৈরির লক্ষ্যে নিবিড় চাষাবাদ বৈশ্বিক উষ্ণতাকে ক্রমশই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে বিজ্ঞানী ও আইপিসিসির একজন নেতৃস্থানীয় সদস্য সালিমুল হক বিবিসিকে বলেন, "যেখানি পারি আমাদের গ্রিন হাউস গ্যাসটাকে কমানো প্রয়োজন। তা না হলে যে পরিমাণে তাপমাত্রা বেড়ে যাবে তা সহ্য করা যাবে না।"

"আমরা যদি মাংস খাওয়া কমিয়ে দিতে পারি তাহলে মাংস উৎপাদনকারী খামারের সংখ্যা কমে যাবে। আর এতে কমবে কার্বন নিঃসরণের মাত্রাও," তিনি বলেন।

তিনি বলেন, "দুই কারণে মাংস খাওয়া কমানোর পরামর্শ দিচ্ছি, একে তো গ্রিন হাউস গ্যাস কমাতে হবে আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বেশি পরিমাণে মাংস খাওয়াটা স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো না। তবে এটি ধনী দেশগুলোতেই বেশি হয়ে থাকে।"

মাংস এবং দুধ নিয়মিত খাওয়া পশ্চিমা দেশের মানুষদের সংস্কৃতিরই অংশ। জীবন যাত্রায় এ ধরনের পরিবর্তন আনতে তারা কতটা প্রস্তুত এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "বর্তমানে পশ্চিমা দেশে অনেক বেশি নিরামিষভোজী মানুষ আছে। যারা খাওয়া নিয়ে অনেক সচেতন।"

"কেউ মাংস খাওয়া বন্ধ করতে বলছে না, কমাতে বলছে। আর এটা নিজের স্বার্থেই করা উচিত। পশ্চিমা দেশে স্থূলতার সমস্যা আছে। তার মানে তারা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি খাচ্ছে। তারা শরীরকে অসুস্থ করে দিচ্ছে। তারা খাওয়া কমাতে পারলে সেটা তাদের জন্যই ভালো," তিনি বলেন।

বিজ্ঞানী সালিমুল হক বলেন, "এ ধরণের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব যদি স্থানীয় ছোট ছোট খামারের উপর নির্ভরতা বাড়ানো যায়। কারণ বড় বড় খামার এগুলোর উপযুক্ত না। যদিও তারা খুব বড় পরিসরে উৎপাদন করে থাকে। এগুলো খুব ভালোভাবে তারা উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে না। বিশেষ করে গবাদি পশুর উপর তারা অনেক চাপ দেয়, খুব খারাপ অবস্থায় রাখে যা উচিত না।"