• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৪১ রাত

খুলনায় সাড়ে ১০ বছরে ১৪ হাজার বিবাহবিচ্ছেদ

  • প্রকাশিত ০৬:০১ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯
বিচ্ছেদ
প্রতীকী ছবি পেক্সেলস

খুলনা সিটি করপোরেশনের সচিব আজমুল হক জানান, তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারীদের সংখ্যাই বেশি।এই হার, ৩০ শতাংশ পুরুষ ও নারী ৭০ শতাংশ 

এবছরের জুলাই পর্যন্ত গত সাড়ে ১০ বছরে খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) ১৪ হাজার ৮৮টি বিবাহ বিচ্ছেদের তথ্য জমা পড়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এলাকাটিতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব, পরকীয়া, নারী-পুরুষের উভয়ের ভারসাম্যহীন উচ্চাভিলাসী মনোভাব, পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক ভাবধারার অনুকরণ, সাংসারিক বন্ধনের প্রতি উদাসীনতা, নারীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পারিবারিক অভিযোজনের আপোসহীন মনোভাবের কারণে বিবাহবিচ্ছেদ দিনদিন বাড়ছে।

গত ১০ বছরে ১৪ হাজার ৮৮টি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। এরমধ্যে ২০০৯ সালে ৯৩২টি, ২০১০ সালে ৯৩৩, ২০১১ সালে ১০৭৪, ২০১২ সালে ১১৮১, ২০১৩ সালে ১২৫৪, ২০১৪ সালে ১৪১৯, ২০১৫ সালে ১৪০৪, ২০১৬ সালে ১৪৮৭, ২০১৭ সালে ১৫৯৫, ২০১৮ সালে ১৭১৯ ও ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত ১০২০টি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। তালাক দেওয়ায় পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যাই বেশি।এই হার, ৩০শতাংশ পুরুষ ও নারী ৭০ শতাংশ, বলেন তিনি।

সাতবছর আগে স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়া এক নারী বলেন, কলেজ শিক্ষকের সাথে পরিবারের পছন্দে তার বিয়ে হয়। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে এবং তার আচরণ স্বাভাবিকভাবে নিতে না পারায় তালাক দেন তিনি। সাতবছর চলে গেলেও পরে আর সংসার হয়নি। বর্তমানে রাজধানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও হতাশার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

প্রকাশ না করার শর্তে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা বলেন, নিজের পছন্দে তার বিয়ে হয়। ‘‘কিন্তু সারাক্ষণ স্বামীর সন্দেহ ও পারিবারিক হস্তক্ষেপ মেনে নিতে পারিনি। যার কারণে স্বামীকে তালাক দেই।’’

খুলনা সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষক প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব, নারী-পুরুষের উভয়ের ভারসাম্যহীন উচ্চভিলাসী মনোভাব, পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক ভাবধারার অনুকরণ, সাংসারিক বন্ধনের প্রতি উদাসীনতা, পারিবারিক অভিযোজনের আপোসহীন মনোভাবের কারণে বিবাহবিচ্ছেদ দিনদিন বাড়ছে।

তিনি বলেন, সমাজে নারীদের আত্মমর্যাদা, কর্মপরিধি ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে। ফলে অনেকক্ষেত্রে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ। পারিবারিক বন্ধনের চেয়ে তারা পেশাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্বামীর ওপর ভরসা করতে চান না। এঅবস্থায় পরিবারে সমস্যা তৈরি হলে তারা বিবাহ বিচ্ছেদের দিকে যাচ্ছেন বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, ডিভোর্সের প্রভাব সন্তানের ওপর পড়ছে। তারা বেড়ে উঠছে ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তান হিসেবে। যা তাদের স্বাভাবিক মানসিক বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা একধরনের আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগে। তাদের জীবন হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক।

বিবাহবিচ্ছেদ প্রতিকারে পারিবার গঠন ও পারিবারিক সম্পর্ক তৈরিতে বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রকাশ চন্দ্র।

তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন, বাঙালি সংস্কৃতি মননে গভীর চেতনায় লালন, অপসংস্কৃতিকে প্রতিহতকরণ, স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের মর্যাদা দেওয়া প্রভৃতি মানসিকতা সৃষ্টির মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ কমিয়ে আনা সম্ভব।