• বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৩ বিকেল

দিল্লিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন বাংলাদেশের পলাশ মাহমুদ

  • প্রকাশিত ০৮:১২ রাত অক্টোবর ১৪, ২০১৯
পলাশ মাহমুদ
বেসরকারি ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস) এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ। ফেসবুক থেকে

ভেজালের বিরুদ্ধে লড়াইরত পলাশ মাহমুদের রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে নামীদামি কোম্পানির ৫২টি পণ্য নিষিদ্ধ করেন হাইকোর্ট। তখন বিষয়টি দেশে ব্যাপক আলোচিত হয়, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও খবর প্রকাশিত হয়

বাংলাদেশে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ ও ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখায় দিল্লিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন বেসরকারি ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস) এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ।

রবিবার (১৩ অক্টোবর) দিল্লির অশোকা রোডে অবস্থিত অন্ধ্র ভবনের ভিআইপি হলে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ কনফারেন্স অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ড সিরিমনি ২০১৯’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মানা দেওয়া হয়। 

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ভারতের ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ প্রোজেক্ট’ এর প্রতিষ্ঠাতা ড. এস.এন. সুবা রাও, দিল্লির রাজ্য সভার সংসদ সদস্য ড. নরেন্দ্র জাদব, ভারতের মানবাধিকার কমিশনের সদস্য দয়নেশ্বর মুলে, সংসদ সদস্য মনোজ তিয়ারী, ‘ন্যাশনাল সাফাই কর্মচারী আয়ওজ’ এর চেয়ারম্যান মনোহার জালা, ‘প্রেসিডেন্ট গান্ধী পিচ ফাউন্ডেশ’ এর প্রেসিডেন্ট কুমার প্রশান্ত ও ন্যাশনাল সমাজকল্যাণ বোর্ডের চেয়ারম্যান দাদা ইদাতেসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

তবে ভিসা পেতে বিলম্ব হওয়ায় পলাশ মাহমুদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। তার পক্ষে সিসিএসর উপদেষ্টা ফিরোজ আলম সুমন অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন। 


আরো পড়ুন -দুধে ভেজাল ধরায় অধ্যাপক ফারুককে হয়রানির অভিযোগ


ভারতের ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডিস ফেডারেশন’ (এনওয়াইবিএএফআই) ও ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সোসাইটি’ (আইওয়াইএস) এর পক্ষ থেকে এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১০ জন তরুণকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। নিজ নিজ দেশের বা সমাজের মানুষের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী তরুণদের মধ্য থেকে কয়েকটি ধাপে বাছাই করে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে দেশে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ ও ভোক্তা অধিকার বাস্তবায়নে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছেন পলাশ মাহমুদ। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস) ও এর যুব শাখা ‘কনজুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ’ (সিওয়াইবি)। সংগঠনটির বর্তমানে ২৬টি শাখা রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী এ সংগঠনের সদস্য হয়ে ভেজাল প্রতিরোধ ও ভোক্তা অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে প্রায় ৪০টি প্রোগ্রাম করেছে।

প্রতিবছর বিশ্বের ১০জন তরুণকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের মে মাসে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সিসিএস এর পক্ষে পলাশ মাহমুদ রিট পিটিশন দায়ের করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে নামীদামি কোম্পানির ৫২টি পণ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তা বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তখন বিষয়টি দেশে ব্যাপক আলোচিত হয়, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও খবর প্রকাশিত হয়।

সামাজিক কাজের পাশাপাশি পলাশ মাহমুদ সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত রয়েছেন। তিনি বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির অনলাইন বিভাগে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত। এর আগে দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক বণিকবার্তা ও দৈনিক ইনকিলাবে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। 


আরো পড়ুন - আড়ংকে জরিমানা, বদলির ১২ ঘন্টা পর আবারও স্বপদে বহাল


এ ছাড়াও তিনি বর্তমানে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সোসাইটি’ (আইওয়াইএস) বাংলাদেশ কান্ট্রিডিরেক্টর, থাইল্যান্ডের ‘ও-ইয়েস ফাউন্ডেশন’র কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর, সুইডেনভিত্তিক ‘ওয়ার্ল্ড পিস কনফারেন্স’ এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দাযিত্ব পালন করছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি থাইল্যান্ডের ‘ও-ইয়েস ফাউন্ডেশন’ এর সেরা কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর পুরস্কার পান। এর আগে ২০১৭ সালে তিনি নেপালে সম্মাননা পান।

পলাশ মাহমুদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক (২০১১) ও স্নাতকোত্তর (২০১৩) সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি মিস্টার হিস্ট্রি, বিভাগীয় ছাত্রসংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক ও সভাপতি (২০১১) হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।


আরো পড়ুন - ‘সচিবের লজ্জিত হওয়া উচিত’