• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২৫ বিকেল

৩৮ বছর ধরে গাছ লাগাচ্ছেন শাজাহান বিশ্বাস

  • প্রকাশিত ০৪:৫৯ বিকেল অক্টোবর ১৯, ২০১৯
শাজাহান বিশ্বাস
কৌড়ি গ্রামের এই সবুজের সমারোহ দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে গড়ে তুলেছেন শাজাহান বিশ্বাস। ঢাকা ট্রিবিউন

গত ৩৮ বছর ধরে নিজ খরচে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার গাছ রোপন করেছেন তিনি

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কৌড়ি গ্রামের শাজাহান বিশ্বাস। এলাকায় তিনি পরিচিত 'বৃক্ষপ্রেমিক শাজাহান' নামে। গত ৩৮ বছর ধরে নিজ খরচে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার গাছ রোপন করেছেন তিনি।

তার আপ্রাণ প্রচেষ্টা ও একাগ্রতায় শিল্পীর পটে আঁকা এক ছবি হয়ে উঠেছে হরিরামপুরের কৌড়ি গ্রাম। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই সুশৃঙ্খল বৃক্ষরাজি। গ্রামটির আঁকাবাঁকা পথের দু’পাশে বনজ ,ফলদ ও ঔষধি বৃক্ষের পূর্ণ সবুজের সমাহার। দীর্ঘ সময় ধরে একটু একটু করে গড়ে সবুজের এই সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন শাজাহান বিশ্বাস। গাছকে তিনি এতোটাই ভালোবাসেন যে সংসার করারও ফুরসৎ মেলেনি তার। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গাছ লাগিয়ে যেতে চান এই ষাট বছর বয়সী এই বৃক্ষপ্রেমিক।

বর্তমানে তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গাছের উপকারিতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার কাজ করছেন।

ঢাকা ট্রিবিউনের সাথে কথা বলার সময় সময় শাজাহান বিশ্বাস তার জীবনের নানা ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এইচএসসি পাশের পর ১৯৭৬ সালে বিদেশে চলে যান তিনি। প্রবাস জীবনে বিভিন্ন দেশের বনাঞ্চল আর বৃক্ষরোপন দেখে উদ্বুদ্ধ হন এবং বছর পাঁচেক পর দেশে ফিরে গড়ে তোলেন নার্সারি। সেখানে চারা উৎপাদন করে রাস্তার দুইপাশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিসের ক্যাম্পাসে নিজের খরচে গাছ লাগাতে শুরু করেন শাজাহান বিশ্বাস। সেই শুরু। এরপর দীর্ঘ ৩৮ বছর শুধু গাছই লাগিয়েছেন তিনি।

গাছগুলোকে নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসেন তিনি। ঢাকা ট্রিবিউন 

তার এমন মহৎ উদ্যোগ আর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে হরিরামপুর উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেড়ে গেছে অনেক। কৌড়ি এলাকার পুরোগ্রাম জুড়ে রাস্তার দু’পাশে গাছ লাগানোর কারণে মানিকগঞ্জসহ আশে পাশের জেলার মানুষের কাছে এই স্থানটি দর্শনীয় হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে।

এদিকে শাজাহান মিয়ার এমন কাজের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা। বন বিভাগ থেকে শাজাহানকে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয় বলে জানিয়েছেন তারা। তারা আরও জানান, শাজাহান মিয়ার এমন কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ হয়ে আশেপাশের গ্রামের মানুষও কয়েক লাখ গাছ রোপন করেছেন।

এমনকি তার এই কর্মকাণ্ডে অর্থনৈতিকভাবেও উপকার পাচ্ছেন এলাকার মানুষ। কৌড়ি গ্রামের তাহেজ মিয়া বলেন, "রাস্তার পাড়ে আমার ১১ শতাংশ জায়গা আছে। সেই জায়াগায় শাজাহান ভাই ১০ বছর আগে ১৪টি গাছ রোপন করেছিলেন। গত বছর সেই ১৪টি গাছ বিক্রি করে আমি জায়গা কিনে করে বাড়ি করেছি এবং মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। আমার মতো আরো অনেকে শাহজাহান ভাইয়ের রোপন করা গাছ বিক্রয় করে নিজেদের অনেক প্রয়োজন মিটিয়েছেন।"

কৌড়ি গ্রামের এই সবুজের সমারোহ দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে গড়ে তুলেছেন শাজাহান বিশ্বাস। ঢাকা ট্রিবিউন

বৃক্ষ প্রেমিক শাজাহান বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “উদ্ভিদ আর প্রাণী এমন ভাবে জড়িত ওরা ছাড়া আমরা নিরুপায় আমরা ছাড়া ওরা নিরুপায়। মানুষের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য যে পরিমাণ উদ্ভিদ প্রয়োজন তা নেই। এভাবে চলতে থাকলে একসময় আমাদের দেশ মরুভূমি হয়ে যাবে।"

তিনি আরো বলেন, "আমি যে ভাবে গাছ রোপন করছি সারা দেশের মানুষ যদি সেভাবে করতো তাহলে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হয়ে যেতাম। গাছও একটা ইন্ডাষ্টিজ, সারা দেশে যদি এই ভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী গাছ রোপন করা হতো তাহলে দেশে কোনো অভাব থাকতো না। এই দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য কখনো নষ্ট হতো না। আমি যখন আমার গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে হেটে যাই তখন দেখি গাছের ছায়ার নিচে বসে অনেক কৃষক বিশ্রাম নিচ্ছে তখন মনে হয় আমি সফল।"