• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:১৭ সন্ধ্যা

বায়ু দূষণের কারণে হতে পারে ব্রেইন ক্যান্সার!

  • প্রকাশিত ১০:০৪ রাত নভেম্বর ১৩, ২০১৯
বায়ু দূষণ
বায়ু দূষণে বিপর্যস্ত রাজধানী ঢাকার জনজীবন। ছবি: মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

দূষিত বায়ুর সঙ্গে ব্রেইন ক্যান্সারের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা এবারই প্রথম পাওয়া গেল

নতুন এক গবেষণায় বায়ু দূষণের ক্ষুদে কণার (ন্যানোপার্টিকেলস) সঙ্গে ব্রেইন ক্যান্সারের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। 

আল্ট্রা-ফাইন পার্টিকেলস বা ইউএফপিএস নামে পরিচিত এই অতি ক্ষুদ্র কণা তৈরি হয় জ্বালানি পোড়ানোর মাধ্যমে, বিশেষ করে ডিজেল চালিত যানে এবং অতিমাত্রার নিঃসরণের ফলে। আর এসব অতি ক্ষুদ্র কণাই মানুষের ব্রেইন ক্যান্সের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ সম্পর্কিত এর আগের গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, দূষিত বায়ুর ক্ষুদে কণা মস্তিস্কের ভেতরে ঢুকতে সক্ষম এবং এরা ক্যান্সার তৈরি করতে পারে এমন রাসায়নিক দ্রব্য বহন করে। 

দূষিত বায়ুর মধ্যে চলাচলকারী প্রতি ১ লাখ জনের মধ্যে একজনের ব্রেইন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে গবেষণায় দেখা যায়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায়। 

এ গবেষণার প্রধান, কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কট উইচেন্থাল বলেন, "ব্যাপকতার দিক থেকে বায়ু দূষণের ঝুঁকি খুব বেশি নয়; কিন্তু এটি গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, দূষণের মধ্যে থাকা প্রত্যেকেই এর শিকার হচ্ছে।"

"তাই এই অল্প ঝুঁকি যখন বিশাল সংখ্যক মানুষের ওপর যোগ হয়, তখন হঠাৎ করেই এ ধরণের ঘটনা অনেক বেশি ঘটতে দেখা যায়। বড় শহরে এই সংখ্যাটি বিশেষ গুরুত্ববহন করে, কারণ ব্রেইন টিউমার রোগটিই অনেক মারাত্মক", যোগ করেন তিনি।

১৯৯১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উনিশ লাখ কানাডীয় নাগরিকের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। ক্ষুদে কণা ও ব্রেইন ক্যান্সারের মধ্যকার সম্পর্ককে "বিস্ময়কর রকমের সামঞ্জস্যপূর্ণ" বলে বর্ণনা করেছেন উইচেন্থাল। তবে এটি যেহেতু প্রথম গবেষণা, তাই এ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি। 

উইচেন্থাল বলেন, "ব্যক্তিগতভাবে দূষিত রাস্তায় চলাচল পরিত্যাগ করাটা একটি ভালো আইডিয়া। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, নীতিনির্ধারকদের পদক্ষেপ, যার ফলে বায়ু দূষণ কমানো যেতে পারে।" 

স্পেনের বার্সেলোনা ইন্সটিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথ'র অধ্যাপক জর্ডি সুনিয়ের এ প্রসঙ্গে বলেন, "এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক তথ্য। জ্বালানী পোড়ায় এমন গাড়ি থেকে সরাসরি অতি ক্ষুদ্র কণা নিঃসরিত হয়। এবং অন্য প্রাণির মধ্যে চালানো একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে বড় কণার চেয়ে এই কণাগুলো অনেক বেশি ক্ষতিকর।"

উল্লেখ্য, বায়ু দূষণের ফলে আরও অনেক ধরণের মস্তিস্কগত সমস্যা হতে পারে যার মধ্যে রয়েছে, বুদ্ধিমত্তা হ্রাস, ডিমেনশিয়া, মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা প্রভৃতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বায়ু দূষণকে "জনস্বাস্থ্যের জন্য নীরব জরুরি অবস্থা" বলে বর্ণনা করেছে।