• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮ রাত

ডায়াবেটিস থেকে হতে পারে ক্যান্সার

  • প্রকাশিত ০৬:২৮ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ৩, ২০১৯
ডায়াবেটিস
ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষকরা দেখেছেন, টাইপ-১ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হারে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে

আমাদের দেশে প্রতিদিন বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগী। আর ডায়াবেটিস মানেই বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা। আর এই জটিলতাকে আরও জটিল করে তুলছে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি। তাই সময় এসেছে ডায়াবেটিস নিয়ে আরেকটু বেশি সচেতন হওয়া এবং নিজের প্রতি আরও যত্নবান হওয়া।

কেন ডায়াবেটিস রোগীদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি?

টাইপ-১ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত রোগীরা জানেন, রক্তের শর্করা দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দেয় এবং দেহের প্রতিটি অঙ্গের ক্ষতি করে। এই অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে হতে পারে “ডিএনএ ড্যামেজ”, যা ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টির কারণ হিসেবে কাজ করে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি থাকলে ডিএনএ ড্যামেজ দীর্ঘস্থায়ী হয়। 

যাদের ডায়াবেটিস নেই তাদের তুলনায় ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে ওভারিয়ান, ব্রেস্ট, কিডনি এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণেরও বেশি। সাধারণতঃ নারীদের তুলনায় পুরুষের স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক হলেও ডায়াবেটিস আক্রান্ত পুরুষের স্তন ক্যান্সারের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নারীদের তুলনায় বেশি।

বিভিন্ন দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষকরা দেখেছেন, টাইপ-১ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হারে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।

তাদের মতে, সুস্থ নারীদের তুলনায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ২৭% বেশি। অন্যদিকে, সুস্থ পুরুষের তুলনায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পুরুষের ক্ষেত্রে তা ১৯% বেশি। 

অস্ট্রেলিয়ার জর্জ ইন্সটিটিউট অব গ্লোবাল হেলথের রিসার্চ ফেলো তোশিয়াকি ওহকুমা'র মতে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীদের যে কোনো ধরনের ক্যান্সারে ভোগার সম্ভাবনা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি। 

বিজ্ঞানীদের ধারণা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্যান্সার ঝুঁকি বেশি থাকার কারণ হলো, হরমোনাল ডিসরেগুলেশন। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে, রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য ইনসুলিন হরমোন কার্যকরভাবে কোষে গ্লুকোজ সরবরাহ করতে পারে না। ফলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য অগ্ন্যাশয় আরও বেশি পরিমাণে ইনসুলিন তৈরি করে এবং দেহে “হাইপার ইনসুলিনেমিয়া” সংঘটিত হয়।

রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ইনসুলিন হরমোন কোষের বৃদ্ধিকে উদ্দীপ্ত করতে পারে, এই বিষয়টিও ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হতে পারে। এছাড়া, অধিকাংশ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওজন এবং শরীরে ফ্যাট তুলনামূলক বেশি থাকে। যাদের ওজন স্বাভাবিক, তাদের তুলনায় যাদের ওজন বেশি তাদের অতিরিক্ত ফ্যাট টিস্যু থেকে অতিরিক্ত অ্যাডিপোকিন হরমোন উৎপন্ন করে। এই হরমোনগুলো দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে যা ক্যান্সার সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত।

অন্যদিকে, টাইপ-১ ডায়াবেটিসে রোগীদের পাকস্থলী ও সারভিক্স ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে সদিচ্ছা থাকলে আমরা খুব সহজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। প্ল্যান্ট (উদ্ভিদ) বেসড ডায়েট, পরিমিত সরল শর্করা প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট হাঁটা অথবা সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ১৫০ থেকে ২০০ মিনিট ব্যায়াম বা শারীরীক পরিশ্রম করা,পর্যাপ্ত ঘুম, সময়মতো ঔষধ/ইনসুলিন নিয়ে ক্যান্সারসহ ডায়াবেটিস সৃষ্ট অন্যান্য জটিলতা এড়িয়ে চলা সম্ভব।