• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৮ দুপুর

দূষিত বায়ু ক্ষতি করছে মস্তিষ্কের

  • প্রকাশিত ০১:২৩ দুপুর ডিসেম্বর ২৭, ২০১৯
বায়ু দূষণ
ঢাকার বায়ু দূষণ। ফাইল ছবি মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

১১ বছর গবেষণার পরে বিজ্ঞানীরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছান

দীর্ঘদিন ধরে দূষিত বায়ু গ্রহণ করলে তা মস্তিষ্কের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এরফলে কমে যায় মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা। ধারণা করা হচ্ছে, দূষিতবায়ু মস্তিষ্কের গঠন বদলে দিতে পারে যা স্মৃতিশক্তিজনিত রোগ “অ্যালঝেইমার”-এর লক্ষণ।

ডাইমেসনসিয়া রোগে নেই এমন ৭৩ থেকে ৮৭ বছর বয়সী ৯৯৮ জন নারীর ওপর সম্প্রতি গবেষণা চালান বিজ্ঞানীরা। তাদের প্রত্যেককে একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর কিছু নতুন তথ্য শিখিয়ে স্মৃতিশক্তির পরীক্ষা নেওয়া হয়। এই পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা সহায়তা নেন “ম্যাগনেটিক রেসোনেন্স”-এর। 

ম্যাগনেটিক রেসোনেন্সের সহায়তায় গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের মস্তিষ্কের এট্রোপি, কোনো একটি তথ্য মনে রাখতে একজন কতটুকু শক্তি ব্যয় করেছেন এসবের একটি গ্রাফ প্রস্তুত করেন গবেষকরা। তারপর সেই গ্রাফকে মিলিয়ে দেখা হয় অ্যালঝেইমার রোগীদের মস্তিষ্কের এট্রোপি গ্রাফের সঙ্গে। 

পাশাপাশি, গবেষকরা ওই নারীদের বসবাসের জায়গার বাতাসে দূষণের মাত্রা কতখানি দূষিত তার তথ্যও সংগ্রহ করেন সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে। ১১ বছর গবেষণার পরে বিজ্ঞানীরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছান। 

তাদের মতে, বায়ুদূষণের মাত্রা ২.৫ পিএম এর বেশী হলেই আসলে ঝামেলা শুরু হয়। যত দূষিত বায়ু ফুসফুস এবং রক্ত ততো কম হরমোন নিঃসরণ করে। ফলে স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা বা অন্য কোনো টেস্টে মান আসে কম। ডিমনেসিয়া এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিসম্পন্ন নারীদের বাদ দিলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার আরও একটি কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। 

এমআরআই পরীক্ষার ফলাফল থেকে দেখা যায়, ২ দশমিক ৫ এর বেশি পিএম থাকলে মস্তিষ্কের এট্রোপির পরিমাণ বেড়ে যায়। এবিষয়ে বিস্তারিতভাবে লেখা আছে “দ্যা স্ট্যাডি ইজ ইন দ্যা জার্নাল ব্রেইন” বইটিতে। 

বইটির প্রধান লেখকের নাম ডিয়ানা ইউনান। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার পোস্ট ডক্টরোলার রিসার্চার।

তার মতে, “পিএম ২ দশমিক ৫ মস্তিষ্কের গঠন বদলে দিতে পারে যার কারণে স্মৃতিশক্তি লোপ পায়।” বায়ু দূষণের বিষয়ে সবাইকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।