• বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১১ দুপুর

পিঠা খেতে ঘুরে আসুন বাংলা একডেমির পৌষমেলা থেকে

  • প্রকাশিত ০৮:২৪ রাত জানুয়ারী ৫, ২০২০
পৌষমেলা
বাংলা একডেমির পৌষমেলায় পিঠাপ্রেমীদের ভিড়। ফোকাস বাংলা

মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকতেই উনুনে ভাপা পিঠা, দুধ আর গুড়ের আবেশী গন্ধে মম করছে চারপাশ

গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে রাজধানীর মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিতে বাংলা একাডেমিতে চলছে তিন দিনের পৌষমেলা। শনিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী কে এম খালিদ মেলার উদ্বোধন করেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়,বাংলা একাডেমি এ হামদর্দ এর যৌথ সহযোগিতায় একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌষমেলা উদযাপন পরিষদ এর উদ্যোগে  আগামী ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত  এই মেলা  চলবে।

রবিবার মেলার দ্বিতীয় দিনে বাংলা একাডেমি চত্বরের বটতলায় বিভিন্ন শিল্পীরা তাদের নাচ গান পরিবেশন করেন। এছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে আগতরা লোকায়ত জীবননির্ভর সঙযাত্রা, যাত্রাপালা এবং আঞ্চলিক গান পরিবেশন করছেন।

মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকতেই উনুনে ভাপা পিঠা, দুধ আর গুড়ের আবেশী গন্ধে মম করছে চারপাশ। পুলি পিঠা, নকশি পিঠা, ডিম পাকন, পাটিসাপটা, ভাপা পিঠা, বিবিখানা পিঠা, ঝাল পিঠা, তিলের পিঠা, মালপোয়া, নারকেল পুলি, দুধ পুলি পিঠা, মুগ পাকন, কুসুম সুখ, ইলিশ মাছের কিমার পিঠাসহ বিভিন্ন জেলার নানা ধরনের তৈরি পিঠার সমারোহ।

ক্রেতার পছন্দ ও চাহিদামাফিক চটজলদি তৈরি করে দেয়া হচ্ছে পিঠা। গরম গরম তৈরি পিঠার খাবার আনন্দে খুশি আগ্রহী দর্শনার্থীরা। এছাড়াও মেলায় পিঠার পাশাপাশি ঠাঁই পেয়েছে ৩০ রকমের আচার,কারুপণ্য ও তৈরি পোশাক।

মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকতেই উনুনে ভাপা পিঠা, দুধ আর গুড়ের আবেশী গন্ধে মম করছে চারপাশ। ফোকাস বাংলানোয়াখালী থেকে আসা লাবণ্য পিঠা ঘরের স্বত্তাধিকারী জান্নাতুল ফেরদৌস পারভীন বলেন, "অনেকদিন থেকেই এই ধরনের মেলায় অংশ নিয়ে থাকি। ১০ টাকা থেকে ১'শ টাকা পর্যন্ত প্রায় ২৮ রকমের পিঠা বিক্রি হয় এই স্টলে।"

পৌষমেলা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, "পঁয়তাল্লিশটি স্টল নিয়ে এ পৌষমেলায় শনিবার থেকে এই মেলা শুরু হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন থাকায় সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এই মেলা চলেছে।"
 তিনি আরও বলেন, "গ্রাম-গঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান আর যাত্রাপালার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী পৌষমেলা মেলা। বেহুলার ভাসান যাত্রাপালা দিয়ে শুরু হয়ে আলোমতি-প্রেমকুমার যাত্রাপালার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই পৌষমেলা।

কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার বলেন, "আজকের প্রজন্ম ফাস্টফুডের এই যুগে এ ধরনের পিঠা উৎসবের আয়োজন আরো বেশী হওয়া জরুরী। বেশিরভাগ শিশু এসব পিঠার নাম জানেনা-চিনেনা। তারা এই ধরনের উৎসব থেকে তারা বঞ্চিত।তবে আরো বেশি প্রচার পেলে পৌষমেলায় লোকসমাগম আরো বেশি হতো।"

সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এ মেলা বিকাল তিনটা থেকে শুরু হয়ে রাত নয়টা পর্যন্ত চলবে।