• রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৩ রাত

এবার নিঃশ্বাস পরীক্ষায় ধরা পড়বে ক্যান্সার

  • প্রকাশিত ১১:৪৩ সকাল জানুয়ারী ৯, ২০২০
নিঃশ্বাস
প্রতীকী ছবি সংগৃহীত

তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিশেষ এই পরীক্ষা অন্যান্য পরীক্ষার মতো সাধারণ ল্যাবরেটরিতে হওয়ার সম্ভাবনা কম

প্রতিবছর ক্যান্সার কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ। দিন দিন বেড়েই চলেছে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার সনাক্ত করা গেলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলাও সম্ভব। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সারের উপসর্গগুলো বোঝা যায় না। ফলে চিকিৎসা শুরু করতে অনেক দেরি হয়ে যায়।  

আশার কথা, বিজ্ঞানীরা ক্যান্সার শনাক্তের জন্য নিত্য-নতুন কৌশল আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজের ক্যান্সার গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা একটি চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন যার মাধ্যমে শুধুমাত্র নিঃশ্বাস পরীক্ষা করেই ক্যান্সার সনাক্ত করা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির একদল ক্যান্সার গবেষক আপাতত এর কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা করছেন। এই গবেষণার কাজে তারা দেড় হাজার মানুষের নিঃশ্বাসের নমুনা সংগ্রহ করা শুরু করেছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই ক্যান্সারে আক্রান্ত। এই পরীক্ষা পদ্ধতিতে নিঃশ্বাসের পরীক্ষার পাশাপাশি রক্ত ও মূত্রের নমুনাও পরীক্ষা করে দেখা হবে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক অবস্থায় পরীক্ষামূলকভাবে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। শ্বাস-প্রশ্বাসে নির্গত বাতাস পরীক্ষা করে কয়েক ধরনের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ সনাক্তের চেষ্টা করছেন তারা। এতে সফল হলে চিকিৎসকরা শুরুতেই নির্ধারণ করতে পারবেন কোনো রোগীর বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার আছে কি না। 

তাদের মতে, এই পরীক্ষায় সফল হলে ক্যান্সারে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার অনেকটা কমে যাবে। তবে এই পরীক্ষার ফলাফল জানার জন্য দুইবছর অপেক্ষা করতে হবে। 

তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিশেষ এই পরীক্ষা অন্যান্য পরীক্ষার মতো সাধারণ ল্যাবরেটরিতে হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে নিঃশ্বাস পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার সনাক্ত করার পদ্ধতি চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন কিছু নয়। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই ফুসফুসের ক্যান্সার সনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিই কাজে লাগাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে এবার যেকোনো ধরনের ক্যান্সার সনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি কাজে লাগানো যায় কিনা, সেটাই পরীক্ষা করে দেখছেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার গবেষকরা। 

এই পরীক্ষায় সফল হলে ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যয় কমবে। কারণ কারও শরীরে যদি ক্যান্সারের লক্ষণ দেখা দেওয়ার শুরুতেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে এবং একটিমাত্র পরীক্ষা কিংবা খুব সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার সনাক্ত করা গেলে, সেটি পরবর্তী ধাপগুলোতে আরও সাশ্রয়ী হবে।