• শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০ রাত

দৈনন্দিন খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল নির্ণয়ের কিছু সহজ উপায়

  • প্রকাশিত ০৪:০৪ বিকেল জানুয়ারী ১৪, ২০২০
খাবার
প্রতীকী ছবি/ঢাকা ট্রিবিউন

ভেজাল খাবার হতে পারে নানাবিধ জটিল ও কঠিন রোগের কারণ। ভেজাল খাবারের কারণে অকালে প্রাণও যায় অনেকের। তাই এ সমস্যা এড়িয়ে চলতে খাবারে ভেজাল শনাক্ত করা জরুরি

সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন বিশুদ্ধ ও পুষ্টিকর খাদ্য। কিন্তু বর্তমানে বাজারে যেসব খাদ্যদ্রব্য পাওয়া যায় তার একটি বড় অংশেই থাকে ভেজালের আশংকা। আর এ ভেজাল খাবার হতে পারে নানাবিধ জটিল ও কঠিন রোগের কারণ। ভেজাল খাবারের কারণে অকালে প্রাণও যায় অনেকের।

তাই এ সমস্যা এড়িয়ে চলতে খাবারে ভেজাল শনাক্ত করা জরুরি। এতে করে আপনি অনেক ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে দূরে থাকতে পারবেন। 

সহজ কিছু কৌশল অনুসরণ করে খাবারে ভেজাল শনাক্ত করা সম্ভব-

শাক-সবজি

ভেজাল নির্ণয়ের জন্য প্যারাফিনের মধ্যে সামান্য তুলা ভিজিয়ে রাখুন। তারপর এই তুলা দিয়ে ফলমূল, শাকসবজি একটি অংশ অথবা যে কোনো সবুজ সবজির এক অংশে লাগিয়ে ঘষুন। তুলাটি সবুজ হয়ে গেলে বুঝতে হবে যে এর মধ্যে কৃত্রিম সবুজ রঙ মেশানো ছিল।

ফল

ফলে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য মেশানোর খবর প্রায়ই শোনা যায়। উদাহরণস্বরূপ, হলুদ রংয়ের (পাকা) আম কাটার পর ছোলার ঠিক নিচের অংশ কাঁচা পাওয়া যেতে পারে। কখনো কখনো ঝুড়ি বা দোকানের সব আম একই সময়ে একইরকম পাকা দেখা যায় এবং দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ফলের চামড়ায় আঁচিল বা তিলের মতো রং দেখা যায়। প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় যে ফল পাকে তাতে মাছি বসে কিন্তু কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ফলে মাছি বসে না। প্রাকৃতিকভাবে পাকা ফলের ছোলা সরানোর পর এক ফোঁটা আয়োডিন দিলে তা গাঢ় নীল অথবা কালো বর্ণ ধারণ করে। কিন্তু কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ফলে এই আয়োডিনের রং অপরিবর্তিত থাকে।

দুধ

দুধে সাধারণত অপরিশোধিত পানি, চকের গুঁড়া, সাবানের গুঁড়া বা ডিটারজেন্ট, স্টার্চ, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ও ইউরিয়া ভেজাল হিসেবে মেশানো হয়। এই দুধ খাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব হচ্ছে – ফুড পয়জনিং, হৃদপিণ্ডের সমস্যা, ক্যান্সার, বমি ও বমিভাব হওয়া। দুধের ভেজাল নির্ণয়ের জন্য একটি খাড়া/ঢালু স্থানে ১ ফোঁটা দুধ ফেলুন। যদি দুধের ফোঁটা সোজা গড়িয়ে পড়ে তাহলে এটি বিশুদ্ধ দুধ। আর যদি সোজা হয়ে না পড়ে তাহলে তাতে ভেজাল আছে বলে বুঝে নিতে হবে।

এছাড়া, তাপ দেওয়ার পরে দুধ হলুদবর্ণ ধারণ করলে এবং স্বাদ তেতো বা সাবানের মতো মনে হলেও বুঝতে হবে যে এর মধ্যে কৃত্রিম উপাদান মেশানো হয়েছে।

চিনি

চিনির ভেজাল নির্ণয়ের জন্য এক গ্লাস পানিতে চিনি মেশানোর পর তা সরাসরি নিচে চলে গেলে তা বিশুদ্ধ চিনি। আর চিনিতে ভেজাল মিশ্রিত থাকলে এটি পানির ওপরে ভাসতে থাকবে।

চা

একটি নষ্ট ব্লটিং পেপারের ওপর কিছু চায়ের গুঁড়া ছিটিয়ে দিন। যদি ব্লটিং পেপারের রঙ হলুদ, কমলা বা লাল হয়ে যায় তাহলে বোঝা যায় যে, এর মধ্যে কৃত্রিম রঙ মেশানো আছে।

কফির গুঁড়া

কফিতে ভেজাল শনাক্ত করার জন্য এক গ্লাস পানির উপরিভাগে সামান্য কফির গুঁড়া ছিটিয়ে দিন। ভেজাল মিশ্রিত কফি প্রথমে পানির ওপর ভাসতে থাকলেও ধীরে ধীরে পানির নিচে চলে যাবে।

আইসক্রিম

আইসক্রিমের ভেজাল নির্ণয়ের জন্য এর ওপর কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ফেলুন। এতে ফেঁপে উঠলে বুঝতে হবে আইসক্রিমে ওয়াশিং পাউডার মেশানো হয়েছে।

ঘি

একটি টেস্টটিউবে এক মিলিলিটার পানি নিয়ে এর মধ্যে ০.৫ গ্রাম ঘি মেশান এবং মিশ্রণটিতে তাপ দিন। ঠাণ্ডা হওয়ার পরে এর মধ্যে ১ ফোঁটা আয়োডিন যোগ করুন। রং নীল হয়ে গেলে বুঝতে হবে, এর মধ্যে ভেজাল আছে।

মরিচের গুঁড়া

মরিচের গুঁড়ার ভেজাল শনাক্ত করার জন্য এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ মরিচের গুঁড়া মেশান। যদি পানির রং পরিবর্তিত হয়ে গেলে বুঝে নিতে হবে যে, তাতে ভেজাল মেশানো হয়েছে।

হলুদের গুঁড়া

ভেজাল নির্ণয়ের জন্য একটি টেস্ট টিউবে হলুদের গুঁড়া নিয়ে তার মধ্যে কয়েক ফোঁটা গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক এসিড দিন। যদি হলুদের রঙ গোলাপি, রক্তবর্ণ বা বেগুণী হয় তাহলে নিশ্চিতভাবেই বোঝা যায় যে এতে ভেজাল আছে।

সবুজ মরিচ

“মেলাসাইট গ্রিন” নামের কৃত্রিম রং মেশানো হয় সবুজ মরিচে। এটি এক ধরনের কার্সিনোজেনিক উপাদান। ভেজাল নির্ণয়ের জন্য প্যারাফিনের মধ্যে সামান্য তুলা ভিজিয়ে রাখুন। তারপর এই তুলা দিয়ে মরিচের একটি অংশ অথবা যে কোনো সবুজ সবজির এক অংশে লাগিয়ে ঘষুন। তুলাটি সবুজ হয়ে গেলে বুঝতে হবে তাতে কৃত্রিম সবুজ রং মেশানো হয়েছে।

সরিষা বীজ এবং তেল

সরিষার ভেজাল নির্ণয়ের জন্য কয়েকটি সরিষা বীজ নিয়ে চূর্ণ করুন। ভেতরের অংশ সাদা হলে সেটি সরিষা নয়। সরিষা বীজের ভেতরের রং হলুদ বর্ণের।