• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৭ রাত

করোনাভাইরাস: যেসব বিষয়ে জানা প্রয়োজন

  • প্রকাশিত ০৭:০৫ রাত জানুয়ারী ২৩, ২০২০
করোনাভাইরাস
ফাইল ছবি: রয়টার্স

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে এসে কমপক্ষে ১৫ জন চিকিৎসাকর্মী নিজেরাই এতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন

চীনে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমিত হয়েছেন আরও প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ।

বিবিসি'র একটি খবরে বলা হয়, কোনো একটি প্রাণী থেকে মানুষের দেহে এই ভাইরাসটির সংক্রমণ হয়। এটি অতি দ্রুতগতিতে অন্যের শরীরে সংক্রমিত হওয়ার মধ্যেই নিজের জিনগত গঠন পরিবর্তন (মিউটেশন) করতে সক্ষম।

এসব কারণে এই ভাইরাস অল্পদিনের মধ্যেই আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

কিন্তু এ ভাইরাসটির প্রকৃতি ও কিভাবে এটিকে রোধ করা সম্ভব সে বিষয়ে এখনও বিশদভাবে জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেস্পিরেটরি সিনড্রোম) বা ইবোলার মতো নানা ধরনের প্রাণঘাতী ভাইরাসের খবর প্রায়শই সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে। করোনাভাইরাস তার মধ্যে সর্বশেষ।

করোনাভাইরাস কী এবং কীভাবে ছড়ায়?

করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস যা এর আগে কখনও মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি।

ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এটিও এক ধরনের করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতোমধ্যেই "মিউটেট করছে" অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে। যার ফলে এটি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

এই ভাইরাস খুব দ্রুত একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়াতে পারে বলে নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। 

এটি মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো করেই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে কী লক্ষণ দেখা যায়?

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হলো শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, জ্বর এবং কাশি। কিন্তু এর পরিণামে অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া, নিউমোনিয়া এবং মৃত্যু ঘটতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন সময় লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তার পর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এর এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট।

এই ভাইরাস কতটা বিপজ্জনক সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের দুই শতাংশ মারা গেছেন এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া এমন মৃত্যুও হয়ে থাকতে পারে যা চিহ্নিত করা যায়নি, জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাই এ ভাইরাস ঠিক কতটা ভয়ংকর তা এখনও স্পষ্ট নয়।

যেভাবে ছড়িয়েছে ভাইরাসটি

মধ্য চীনের উহান শহর থেকে এই রোগের সূচনা। গত ৩১ ডিসেম্বর এই শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে চীন কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি এতে প্রথমবারের মতো একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

ঠিক কীভাবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল তা এখনও নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা।

তবে তারা বলছেন, কোনো প্রাণী এই ভাইরাসের উৎস ছিল। প্রাণী থেকেই প্রথমে ভাইরাসটি কোনো মানুষের দেহে ঢুকেছে এবং পরে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে।

এই ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাবার উপায় কী?

একমাত্র উপায় হলো যারা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এই ভাইরাস বহন করছেন তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. গ্যাব্রিয়েল লিউং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এক নির্দেশনায় বলেছেন, হাত সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং বার বার হাত ধুতে হবে। হাত দিয়ে নাক বা মুখ ঘষা যাবে না, ঘরের বাইরে গেলে মুখোশ পরতে হবে।

তিনি বলেন, "আপনি যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে মুখোশ পরুন, আর নিজে অসুস্থ না হলেও, অন্যের সংস্পর্শ এড়াতেও মুখোশ পরুন।"

এদিকে উহান শহরে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে এসে কমপক্ষে ১৫ জন চিকিৎসাকর্মী নিজেরাই এতে আক্রান্ত হয়েছেন।