• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৪৩ রাত

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া মানেই কি নিশ্চিত মৃত্যু?

  • প্রকাশিত ১১:৫৮ সকাল মার্চ ৩, ২০২০
করোনাভাইরাস
চীনের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। এএফপি

এক্ষেত্রে মৃত্যুর বিষয়টি নির্ভর করে বয়স, লিঙ্গ, স্বাস্থ্যগত অবস্থার উপর

সারা বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস)। এখনও পর্যন্ত ৮০ হাজারের বেশি মানুষ মারণঘাতি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ভূখণ্ডে এখন পর্যন্ত কাউকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা না গেলেও মানুষের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক রয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া মানেই কি নিশ্চিত মৃত্যু? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

গবেষকদের ধারণা ছিল, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি এক হাজার জনের মধ্যে ৫ থেকে ৪০ জন রোগী মারা যেতে পারেন। তবে সম্প্রতি সেই ধারণা কিছুটা পালটেছে। প্রতি হাজারে এখন মাত্র ৯ জনের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। অর্থাৎ মৃত্যুহার মাত্র এক শতাংশের কাছাকাছি। যদিও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নির্ভর করে বয়স, লিঙ্গ, স্বাস্থ্যগত অবস্থার উপর।

তবে, অনেকেরই ধারণা করোনাভাইরাসে মৃত্যুহার বের করাটা বেশ কঠিন কাজ। এমনকি, সুনির্দিষ্টভাবে কতোজন মারা গেলেন, তা গণনা করাটাও অত্যন্ত জটিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ আক্রান্তের সংখ্যাই হিসেবের বাইরে থেকে যায়। কারণ মৃদু উপসর্গ হলে কেউই চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না।

যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজের এক গবেষণা অনুযায়ী, মৃদু সংক্রমণ শনাক্তের ক্ষেত্রে কিছু দেশ পারদর্শী হলেও অধিকাংশ দেশেই তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। সেই কারণে আক্রান্তের হিসাব রাখাটা কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়। তাই আক্রান্তের সংখ্যা ঠিকভাবে গণনা করা হলে মৃত্যুহার আরও বেশি হত বলে মনে করছেন অনেকেই।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে বয়স্ক, অসুস্থ আর পুরুষদের মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। চিনের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, করোনাভাইরাসে সংক্রমণের শিকার ৪৪ হাজার মানুষের মধ্যে মধ্য বয়সীদের তুলনায় বৃদ্ধদের মধ্যে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুহার ১০ গুণ বেশি। আর ৩০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুহার সবচেয়ে কম। তবে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্ট রয়েছে তাদের মধ্যে মৃত্যুহার সুস্থ মানুষদের থেকে ৫ গুণ বেশি।