ঢাকা লিট ফেস্ট

গুজব থেকে মানুষকে রক্ষা করতে ভিডিও বানাতে শুরু করেন তাসনিম জারা

দশম ঢাকা লিট ফেস্টের সমাপনী দিনে ‘ইনফোডেমিকস: হেলথ ইন দ্য এইজ অব মিসইনফরমেশন’ শিরোনামের একটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়

বাংলা একাডেমিতে পর্দা নামছে সাহিত্যের অন্যতম শীর্ষ আসর ঢাকা লিট ফেস্টের দশম আসরের। এবারের আসরে অংশ নিয়েছেন পাঁচ মহাদেশের পাঁচ শতাধিক বক্তা। চার দিনের এই উৎসবে ১৭৫টির বেশি সেশনে অংশ নিয়েছেন তারা।

৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উৎসবের সমাপনী দিনে রবিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে তীব্র শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে হাজির হন দর্শনার্থীরা।

সমাপনী দিনে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে “ইনফোডেমিকস: হেলথ ইন দ্য এইজ অব মিসইনফরমেশন” শিরোনামের একটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। 

বিজ্ঞানী, গবেষক ও পিএইচডি রিসার্চার জাইন ওমর আলীর সঞ্চালনায় এতে অংশ নেন পডকাস্ট ক্রিয়েটর, লেখক রেসা লুইস, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও কমিউনিটি হেলথকর্মী ডা. তাসনিম জারা।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ডা. তাসনিম জারা জানান,  করোনাভাইরাস মহামারি চলাকালীন ব্রিটিশ স্বাস্থ্য বিভাগে কাজ করতেন তিনি। সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্ক্রল করতে গিয়ে অসংখ্য ভুয়া নিউজ ও গুজব দেখতে পেতেন নিয়ে। সাধারণ মানুষদের বড় অংশই এসবে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল। কিছু করার তাড়না থেকে পরিবার ও বন্ধু বান্ধবদের সচেতন করে তুলতে ভিডিও তৈরি করা শুরু করেন তিনি। তার করা ভিডিওগুলো সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে থাকে। প্রচুর মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়ে তার কন্টেন্ট।

কীভাবে সবার কাছে নিজের কন্টেন্ট ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তাসনিম জারা জানান, তিনি গ্রামীণফোন, ব্র্যাক ও টেন মিনিট স্কুলের সঙ্গে পার্টনারশিপ করেছিলেন। যাদের ইন্টারনেটে এক্সেস নেই তাদের কাছেও যেন সঠিক খবর পৌঁছে দিতে পারেন সেজন্য নিজের ভিডিওগুলো কপিরাইট ফ্রি করে দেন তিনি। ফলে যে কেউ যেকোনো জায়গাতে ব্যবহার করতে পারে ভিডিওগুলো। নিজের পেশার পাশাপাশি সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের বোধগম্য করে ভিডিও তৈরি করতে যে তার প্রচুর সময় ও শ্রম দিতে হয়েছে তাও উল্লেখ করেন তিনি।

‘ইনফোডেমিকস: হেলথ ইন দ্য এইজ অব মিসইনফরমেশন' শিরোনামের সেশনে আলোচকরা//সংগৃহীত

রেসা লুইস তার অভিজ্ঞতার কথা শোনান।  তিনি জানান, অ্যান্টি ভ্যাকসিন মুভমেন্টের ফলে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডার মতো সভ্য দেশে ভ্যাকসিন বিরোধী মুভমেন্ট শুরু হয়। অসংখ্য মানুষ কোনো বাছ বিচার না করেই এসব বিশ্বাস করছিল। মানুষের মধ্যে ভ্যাকসিন নিলে বাবা হওয়ার ক্ষমতা হারানো, ভ্যাকসিনের মাধ্যমে শরীরে ন্যানো চিপ ঢুকিয়ে দেওয়া, বাচ্চা না নিতে পারার মতো হাজারো গুজব ছড়িয়ে পড়ছিলো। রিসার্চের রেজাল্ট, এবং কোভিড স্পেশালিস্টদের নিয়ে পডকাস্ট করার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করে তোলার কাজ করে গেছেন তিনি।

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুঁড়িতেও জনগণ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে অনেক সময়। তখনকার আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনা ভাইরাস যে চীনের গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছিলেন তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিপরীতে চীনও একই দাবি করে বলে যে ভাইরাস আসলে আমেরিকা থেকে ছড়িয়েছে। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও সায়েন্টিস্ট, রিসার্চাররা তাদের কাজ করে গেছেন।”

দর্শকদের কাছ থেকে আসা প্রশ্নের উত্তরে আলোচকরা বলেন, সাধারণ মানুষকে গুজব ও ভুয়া নিউজ নিয়ে সচেতন হয়ে উঠতে হবে। খবরের সঠিক উৎস সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে হবে তাদের। ধর্মীয় নেতা ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রোপাগান্ডাতে কান না দিতে অনুরোধ জানান আলোচকরা। কারণ, সাধারণ মানুষরা যখন এসবে বিশ্বাস করতে শুরু করে, তখন অক্লান্তভাবে পরিশ্রম করে যাওয়া ডাক্তার, সায়েন্টিস্ট, রিসার্চসারসহ হাজারো মানুষদের পরিশ্রমকে অসম্মান করা হয়।

উন্নত দেশগুলোতে সরকার গুজব রোধে অসংখ্য উদ্যোগ নিয়ে থাকে। আমেরিকা সরকারের অর্থায়নে আনমেডিকেল মিসইনফরমেশন সিরিজটির কথা উদাহরণ হিসেবে আলোচনা করেন তিনি। বাংলাদেশও এমন কিছু করতে পারে এবং তা সরকারি উদ্যোগে হওয়া উচিত তা উল্লেখ করেন রেসা লুইস।

ADVERTISEMENT

×