Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

করোনার জেরে ছড়িয়ে পড়তে পারে আরেক মহামারি!

সম্প্রতি রাঙ্গামাটির দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের ১০-১২টি গ্রামে হামের প্রাদুর্ভাব বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০৭:৩৮ পিএম

মহামারি করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্ব। জীবনঘাতি এই ভাইরাসটি প্রতিনিয়ত বয়ে আনছে নতুন নতুন দুঃসংবাদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই করোনাভাইরাসের জের ধরেই আরও একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে মানুষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিষেধক বা টিকা দেওয়ায় বিলম্ব হওয়ায় শিশুদের মধ্যে হাম মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।  

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, চলতি বছরে ৩৭টি দেশের ১১ কোটি ৭০ লাখ শিশু করোনাভাইরাসের কারণে সময় মতো হামের প্রতিষেধক পাবে না। 

হাম হলে শরীরে জ্বর, কাশি ও র‍্যাশের উপসর্গ দেখা দেয়। এর প্রতিষেধক হিসেবে “এমএমআর” ভ্যাক্সিনের দুই ডোজ দেওয়া হয়। ভ্যাক্সিনটি হাম ছাড়াও মাম্পস ও রুবেলার প্রতিষেধক হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।   

“এমএমআর” ভ্যাক্সিন প্রদানের হার যেসব দেশে কম, ইউরোপের সেসব দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। 

সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, যুক্তরাজ্যকে সরকার “হাম মুক্ত” ঘোষণার পর আবার দেশটিতে নতুন করে রোগটির সংক্রমণ দেখা গিয়েছে। হামের টিকা যুক্তরাজ্যে শিশুদের বিনামূল্যে দেওয়া হয়।  

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, সারা বিশ্বে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ৯৫ শতাংশ হামের দুটি টিকার প্রথমটি পেলেও, দ্বিতীয় টিকাটি পেয়েছে ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ। সাধারণ হিসাবে এটি চোখে পড়ার মতো না হলেও, হাম খুবই বেশি মাত্রায় সংক্রামক। তাই সামান্য কম মাত্রায় প্রতিষেধক প্রদানও ভয়াবহ ফল বয়ে আনতে পারে। 

ডাব্লিউএইচও জানিয়েছে, যেসব দেশে বর্তমানে হামের কোনো সংক্রমণ নেই সেসব দেশ আপাতত হামের টিকা কার্যক্রম বন্ধ রাখায় সমস্যা না হলেও, ঝুঁকিপূর্ণ ২৪টি দেশ করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে হামের টিকাদানের কর্মসূচী পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে-বাংলাদেশ, ব্রাজিল, বলিভিয়া, কম্বোডিয়া, চাদ, চিলি, কলম্বিয়া, জিবুতি, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইথিওপিয়া, হন্ডুরাস, কাজাখস্তান, কিরগিস্তান, লেবানন, মালদ্বীপ, মেক্সিকো, নেপাল, নাইজেরিয়া, প্যারাগুয়ে, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, ইউক্রেন ও উজবেকিস্তান। এই তালিকা আরও বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ডাব্লিউএইচও।   

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে যদি হামের সার্বিক টিকাদান পেছাতেই হয়, তাহলে ঝূঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সরকারের উচিত শুধু যেসব শিশুকে এখন পর্যন্ত এই টিকা দেওয়া হয়নি তাদের খুঁজে বের করা এবং যত দ্রুত সম্ভব তাদের টিকা দেওয়া। 

ডাব্লিউএইচও’র মুখপাত্র জোয়ানা রেয়া বলেন, টিকাদান কর্মসূচীতে বাধা আসলে শিশুদের মধ্যে হামের মতো ভয়াবহ রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে। এতে বর্তমান মহামারি পরিস্থিতির মধ্যে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার ওপর নতুন করে চাপ পড়বে এবং সংক্রমক রোগের দ্বিতীয় একটি মহামারির ঝুঁকিতে পড়বে দেশগুলো।

সম্প্রতি রাঙ্গামাটির দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের ১০-১২টি গ্রামে হামের প্রাদুর্ভাব বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হামে আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে আড়াই শতাধিক। এছাড়া বান্দরবানেও অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।  

About

Popular Links