Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্বামীর কোভিড, গয়না বন্ধক রেখে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া মেটালেন স্ত্রী

অনেক ঘুরেও স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারেননি বরং অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া মেটাতে সোনার হার বন্ধক রাখতে হয়েছে ভারতের ওই নারীর

আপডেট : ১৪ মে ২০২১, ০৮:৪৭ পিএম

কোভিডে আক্রান্ত স্বামীর জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছিলেন। তবে অনেক ঘুরেও স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারেননি। বরং অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া মেটাতে সোনার হার বন্ধক রাখতে হয়েছে ভারতের হুগলি জেলার কোন্নগরের এক নারীর।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, কোভিড রোগীদের পরিবারের অসহায়তার সুযোগ নিচ্ছে দেশটির অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা প্রদানকারী কয়েকটি সংস্থা। দমদমের একটি সংস্থার বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করেছেন ওই নারী। ভাড়া যে বেশি নেওয়া হচ্ছে, তা কার্যত স্বীকার করেছে সংস্থাটিও। তবে সংস্থার মালিকের দাবি, কোভিড পরিস্থিতির জন্য ভাড়া বেড়েছে অ্যাম্বুলেন্সের।

কোন্নগরের ওই পরিবার সূত্রে খবর, কোভিডের উপসর্গ থাকায় তনুশ্রীর স্বামী মেহতাব আলম আনসারিকে হিন্দমোটরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার তার কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসে। মেহতাবের অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকায় শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। এরপর রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। হিন্দমোটরে কোনও সিসিইউ-যুক্ত অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে দমদমের এক বেসরকারি সংস্থায় অ্যাম্বুলেন্সের জন্য যোগাযোগ করেন তনুশ্রী। 

শুক্রবার মেহতাবকে ওই অ্যাম্বুলেন্সে করে হিন্দমোটর থেকে কলকাতায় যান তিনি। তবে বেশ কয়েকটি হাসপাতালে ঘুরেও কোথাও বেড পাননি। হতাশ হয়ে প্রায় ৬ ঘণ্টা পর হিন্দমোটরেই ফিরে আসতে বাধ্য হন তনুশ্রী। এর পর তার কাছ থেকে ৩৩ হাজার টাকা অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া চায় দমদমের ওই সংস্থাটি। তবে সে মুহূর্তে তনুশ্রীর কাছে অত টাকা না থাকায় নিজের সোনার হার বন্ধক রেখে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া মেটাতে বাধ্য হন তিনি।

বেশি ভাড়া নিয়ে তনুশ্রীর অভিযোগ কার্যত স্বীকার করলেও তা নিয়ে সাফাই গেয়েছেন অ্যাম্বুলেন্স সংস্থার মালিক উত্তম ঘোষ। তিনি বলেন, “সিসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের তুলনায় বেশি। সেখানে চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান থাকেন। কলকাতার একাধিক হাসপাতালে ঘুরে রোগীকে নিয়ে হিন্দমোটরে ফিরে আসে অ্যাম্বুলেন্সটি। সে ভাড়াই নেওয়া হয়েছে।” যদিও উত্তম আরও বলেন, “আমাকে বললে হয়তো ভাড়া কিছুটা কমানো যেত। কোভিড পরিস্থিতির জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া বেশি হয়েছে।”

About

Popular Links