Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পুরুষেরও হতে পারে স্তন ক্যান্সার, প্রয়োজন সচেতনতা

কোনো পুরুষ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে দ্রুতই তা শরীরে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩১ পিএম

ক্যান্সার (Cancer) একটি ল্যাটিন শব্দ, যার বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায় কাঁকড়া। দেহে এই ক্যান্সার রোগ কাঁকড়ার মতোই বিদঘুটে আকার ধারণ করে ও কিলবিলিয়ে আঁকড়ে ধরে ছড়িয়ে যেতে পারে। সহজে ভাষায়, মানবদেহের কোথাও অস্বাভাবিক কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেলে, তাকে ক্যান্সার বলে।

নারীদেহে ঘটিত ক্যান্সারগুলোর মধ্যে স্তন ক্যান্সার দ্বিতীয় প্রধান ক্যান্সার। বিশ্বে প্রতি ৪ জন ক্যান্সার রোগীর মধ্যে ১ জন স্তন ক্যান্সারের রোগী। তবে প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয় করা গেলে, যথাযথ চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে ৯৮% ক্ষেত্রে এটিকে নিরাময় করা যায়।

শুধু নারীই নয়, পুরুষও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। যদিও সেটা মাত্র ১% থেকেও কম ক্ষেত্রে হয়। তবে হয়ে গেলে, তা নারীর স্তন ক্যান্সার থেকেও দ্রুত ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে বলে মনে করেন ডেল্টা মেডিকেল কলেজের সার্জিকাল ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. তপেশ কুমার পাল। এর কারণ হচ্ছে পুরুষের স্তনের লসিকা প্রবাহ (lymphatic drainage) নারীদের থেকে বেশি। ফলে ক্যান্সার লসিকার মাধম্যে দ্রুত দেহের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। রেফারেন্স: এসেনশিয়ালস অব হিউম্যান অ্যানাটমি বাই এ.কে. দত্ত (চতুর্থ সংস্করণ, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৪)

তবে, পুরুষের স্তন যদি অস্বাভাবিক ভাবে বড় হয়ে যায়, সেই রোগকে বলে গাইনেকোমেসিয়া (Gynaecomastia) বলে। এটি ক্যান্সার নয়। জিনগত ত্রুটি, লিভারের অসুখ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি কারণে এটা হতে পারে।

ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায় শনাক্ত করতে স্তন নিজে নিজে পরীক্ষা করা (Breast Self Examination) উচিত।

২০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের প্রতিমাসে একবার নিজের স্তন পরীক্ষা করে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করা উচিৎ-

> স্তনে বা বগলে কোনো চাকা/ পিণ্ড দেখা যাচ্ছে কিনা

> স্তনের চামড়ায় খাঁজ, ক্ষত, লালচে ভাব, কুঁচকানো ভাব, স্ফীতি ইত্যাদি আছে কিনা

> স্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে ঢুকে গেছে কি-না, বা বৃন্ত থেকে কোনো তরল নিঃসৃত হচ্ছে কি-না

> স্তনের ভেতরে কোনো চাকা/ পিণ্ড আছে কি-না এবং সেটা শক্ত হয়ে ওপরের চামড়া বা নিচের পেশির সঙ্গে আটকে আছে কি-না

দাঁড়িয়ে, শুয়ে এবং কাত হয়ে হাতের ২য়, ৩য়, ৪র্থ আঙুল দিয়ে স্তনকে অনুভব করতে হবে। দাঁড়ানো অবস্থায় অপর হাতটি মাথার পেছনে চাপ দিয়ে রাখতে হবে, যাতে বুকের মাংসপেশি  শক্ত হয় এবং সহজে স্তন হাত দিয়ে ঘষে অনুভব করা যায়। স্তনকে চারভাগে ভাগ করে প্রতি এলাকায় বৃত্তাকার, ওপর-নিচ, বাইরে থেকে ভেতরে এই ৩ ভাবে  হাত ঘষে ঘষে পরীক্ষা করতে হবে।

ঝুঁকি কমাতে যা করবেন

> দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন

> শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ পান করান

> প্রতিমাসে একবার নিজে নিজের স্তন পরীক্ষা করুন

> পরিবারের কারও স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখুন

> ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করুন

আমেরিকান ব্রেস্ট ক্যান্সার অ্যাসোসিয়েশন ৪০ বছরের বয়সের পর প্রতি দুই বছর পর পর এবং ৫০ বছর বয়সের পর প্রতি বছর নারীদের স্ক্রিনিং মেমোগ্রাম পরীক্ষাটি করার পরামর্শ দেয়। এটি এক ধরনের এক্স-রে, যার মাধ্যমে স্তনের ভেতরে কোনো ক্যান্সার বা টিউমার আছে কি-না দেখা যায়। 

বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সারের রোগী অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। তবে অনেকেই লজ্জা বা সংকোচের কারণে প্রাথমিক পর্যায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে চান না। ফলে শেষ পর্যায়ে এসে পড়লে চিকিৎসা করে নিরাময় করা জটিল হয়ে পড়ে। 


ডা. মুহম্মদ মুহিদুল ইসলাম

এমবিবিএস, ডেল্টা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল



About

Popular Links