Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

উৎকলিত রহমানের তিনটি কবিতা

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৪৮ পিএম

ভঙ্গুর স্বপ্নমালা

জানো অস্পর্শিয়া, 

অশরীরী এই ভালোবাসা ঘুণ পোকার মতো

নিঃশব্দে কুরে কুরে খাচ্ছে অন্তর

আবেগের বেগে শেকল পরিয়েছে বাস্তবতা

অথচ স্বপ্ন থেমে নেই! সেখানে এখন বসন্ত বাতাস

হঠাৎ বেগ বেড়ে গেলে, ঘুণ খোড়া ক্ষতে লাগে ঘা 

জানো অস্পর্শিয়া, 

কল্পনায় তোমার ঘুমন্ত মুখে কত সহস্রবার

আঙুলের ডগায় সরিয়েছি এলোমেলো চুলের গোছা

এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ে ভাগ করেছি ভালোবাসা

দেয়ালজুড়ে যুগল ছবির বিন্যাস

আলস্যের আরাম কেদারায় পাশাপাশি

রাতের নীরব কাব্যপাঠে আবেগী স্রোত

শরতের চিড় ধরা আকাশ পানে চেয়ে

মেঠো পথের বাকে উদাস বিকেল

হ্যামকে দুলে গল্পের রাতে কপলে আঁকা চুম্বন গাঁথা 


অথচ কি অদ্ভুত! 

দূরত্বের মাইলফলকে চিড় ধরে ফটোফ্রেমে

কল্পলোকের মায়ায় জলের ছাট আসে আচমকা

দেখি কেউ পাশে নেই! 




নস্টালজিয়া

কিছু শেষ হয়ে যাওয়া গল্পের রেশ

বিকেলের শেষ আলোয় শূন্য বেঞ্চের সাথে মিশে রয়-

বহু যুগ পরেও কান পেতে সে হাসির শব্দ শোনা যায়,

আলাদা করা যায় অচল হয়ে যাওয়া পারফিউমের ব্র্যান্ডটা!

নতুন শিশির হাসে নতুন ঘাসে, 

তবু পুরনো মাটির বুনটে আজও অক্ষয় সে যুগল রসায়ন,

নানা ভৌত সমীকরণে গড়ে ওঠে পাললিক শিলা!

বহু কালের বহু গল্পে বিচিত্র বর্ণে মসৃণ এক গঠন যেন- 

আমাদেরও জলছাপ রয়ে যায় তাতে, 

বহু শতাব্দী পর যদি ফিরে আসি এ পৃথিবীতে,

যদি ফিরে পাই সে প্রিয় শহর, জানি চিনে নেব তারে, 

এই গল্পের নেই কোনো শেষ!

শব্দ তরঙ্গের মতো ভেসে রবে, বেঁচে রবে অসীমের সীমায়!



জীবনানন্দ সমীপেষু

জানি, আর আসিবে না ফিরে, ধানসিঁড়ির তীরে এই বাংলায়, 

বহু অবহেলায় ছিঁড়ে গেছে ফেড়ে গেছে সে হৃদয়, 

আমলকীর বনে এসেছিল বসন্ত একদিন তবু, 

নারিকেল পাতার সাথে বাতাসের হয়েছিল মিতালী, 

ঝুম সন্ধ্যায় জ্যোৎস্নার ঝড়ে পড়া দেখেছিল তারা, 

তারপর বহু নদী বহু দিকে গেছে চলে, কত শত নক্ষত্র গেছে ঝড়ে,

শত বসন্তের বিরহ ব্যথায় ক্লান্ত শরীর হেঁটেছে পৃথিবীর পথে পথে,

অযুক্তচর আত্মার ক্ষরণ মোছে নি কেউ, তাই অভিমানী ধরেছিল ট্রেন, 

সমান্তরাল পথ ফেরেনি আর নীড়ে!


আজ এতদিন পর, এখনও ভোরের কুয়াশা গাঢ় হলে, 

নারিকেল পাতায় টপটপ পড়ে, 

জলের সাথে কুয়াশার হয় মেলবন্ধন, 

ক্ষুধার্ত ধবল বক তীক্ষ দৃষ্টি রাখে, 

তারপর ঠোঁটের কোণে পুটি মাছ নিয়ে সাদা মেঘে মিশে যায়, 

কয়েকটি ঝড়া পালক খুব আলসে খসে পড়ে


আজ থেকে বহু বছর আগে, আমিও কি হয়েছিলাম জীবনানন্দ! 

এইসব দিনরাত্রির ভিড়ে, আমিও হেঁটেছি তার মতন করে 

কখনও বনলতা, কখনও সুরঞ্জনার ভিড়ে ছায়া ছিল লাবণ্য, 

কোথাও চলে গেছে কোন যুবকের সাথে, রাত্রি আর দিনের ভিড়ে, 

তারপর আর আসেনিকো ফিরে! ছিঁড়ে গেছি, ফেড়ে গেছি, 

মিলে গেছি অরণ্যের ভিড়ে।


লাবণ্য এসেছিল, এসেছিল একবার, শেষবার! 

চোখের সুরমা একটুও মোছেনি তার! 

গাঢ় লিপস্টিকের ভিড়ে চাপা পড়েছিল মমতা! 

তারপর! 

আমিও হেয়ছি গোধ‚লি, রেখে গিয়েছি ঝড়া পাতার কাব্য, 

বেদনার বাহুবন্ধনে।

About

Popular Links