Friday, June 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শত বদনাম থাকলেও পরিবেশের জন্য যথেষ্ট উপকারী হায়েনা

বন্যপ্রাণী হিসেবে হায়েনার ভাবমূর্তি মোটেও ইতিবাচক নয়। জঙ্গলে বড় শিকারি প্রাণীদের উচ্ছিষ্ট খাদ্য খেয়েই দলবদ্ধ এই প্রাণী জীবনধারণ করে

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২২, ১২:৫৯ পিএম

বন্যপ্রাণী হিসেবে হায়েনার ভাবমূর্তি মোটেও ইতিবাচক নয়। জঙ্গলে বড় শিকারি প্রাণীদের উচ্ছিষ্ট খাদ্য খেয়েই দলবদ্ধ এই প্রাণী জীবনধারণ করে। অথচ ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য বজায় রাখতে হায়েনার অবদান ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।

নামিবিয়ায় বাদামী হায়েনার সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী রয়েছে। স্থানীয় মানুষকে শামিল করেই এই বিরল প্রাণীর বংশবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। দেশের উত্তর পশ্চিমে স্কেলিটন কোস্ট বাদামী হায়েনার বাসস্থান। মরুভূমির চরম পরিবেশ ও শীতল বেনগেলা স্রোতের সঙ্গেও এই প্রাণী নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে।

জীববিজ্ঞানী এমসি ভারওয়ে সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে বাদামী হায়েনা পর্যবেক্ষণ করছেন। এক পর্যটন সংস্থার বৈজ্ঞানিক সমন্বয়ক হিসেবে তিনি কর্মরত রয়েছেন, যেটি আঞ্চলিক স্তরে প্রকৃতি সংরক্ষণ প্রকল্পে সহায়তা করে।

তিনি মনে করেন, “হায়েনা ইকো সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ এই প্রাণীর ভাবমূর্তি সব সময়ে শুধু নেতিবাচক। বেশিরভাগ মানুষই হায়েনাকে খারাপ চোখে দেখেন।”

চাষিদের মনেও হায়েনার উপদ্রব সম্পর্কে ক্ষোভ রয়েছে। হায়েনা তাদের ছাগল বা অন্যান্য গৃহপালিত পশু মারলেও তাদের হাত-পা বাঁধা, কিছুই করার জো নেই। তা সত্ত্বেও হায়েনা মারার ইচ্ছা হয়।

গবাদি পশু পালনকারী হিসেবে ফিনেয়াস কাসাওনা কিন্তু বলেন, “এটা এখন এক অভয়ারণ্য। বন্য প্রাণীর সঙ্গেই আমাদের থাকতে হয়। ভেড়া ও ছাগলের মতোই এই প্রাণীদের কারণেও আমাদের উপার্জন হয়। সে কারণে আমি আর হায়েনা মারি না।”

এমন নেতিবাচক ভাবমূর্তি সত্ত্বেও হায়েনার অবদান কম নয়। বৈজ্ঞানিক সমন্বয়ক হিসেবে এমসি ভারওয়ে এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “হায়েনার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। স্ক্যাভেঞ্জার বা নোংরা খাদক হিসেবে মরুভূমিতে টিকে থাকা মোটেই সহজ নয়। তাছাড়া হায়েনা অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী। অথচ এখানে বিচ্ছিন্ন কিছু প্রাণী দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বাসায় বিশেষ করে শাবকের জন্ম হলে হায়েনা একজোট হয়ে যায়। শাবকের সঙ্গে অনেক সময় কাটায়, খেলে।”

উপকূল থেকে কিছুটা দূরে ভারওয়ে হায়েনার গোষ্ঠী গঠনের এক প্রণালী আবিষ্কার করেছেন। সেখানে বাদামী হায়েনা নিজেদের মধ্যে খেলা করে ও শিকার করা মাংস ভাগ করে নেয়। মরুভূমির মধ্য দিয়ে মাংস টেনে নিয়ে গিয়ে শাবকদের খাওয়ায়।

স্ক্যাভেঞ্জার হিসেবে এই প্রাণী অনেক রোগ ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করে। ফলে গবাদি পশু ও পশু পালনকারীদের উপকার হয়। অথচ নেতিবাচক ভাবমূর্তির কারণে নির্মমভাবে হায়েনা শিকার করা হয়।

এমসি ভারওয়ে বলেন, “মানুষ সিংহ ও চিতা মারার জন্য বিষ ছড়িয়ে দেয়। ফলে হায়েনাও মরে যায়। এখানকার মানুষ হায়েনা খুব ভয় পায়। বোঝে না, এই প্রাণী কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান। তারা পাথর ছুড়ে মারে অথবা গাড়ি নিয়ে পেছনে তাড়া করে।”

সাত বছরের খরার ফলে গোটা অঞ্চলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। ফলে খোরাকের সন্ধানে হায়েনাকে আরও দূরে যেতে হয় এবং চাষিদের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি হয়। গবাদি পশু হারানোর ফলে চাষিদের রোষ আরও বেড়ে যাচ্ছে। ইমানুয়েল গুরিরাব তাদেরই অন্যতম।

কুনেনে অঞ্চলে লেউকপ খামারে দুটি সিংহ গুরিরাবের ৬৬টি ছাগল ও দশটি ভেড়া মেরে ফেলেছে।


About

Popular Links