Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রথমবারের মতো মানবদেহের সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স সম্পন্ন

নতুন এই সাফল্যের মাধ্যমে কীভাবে ডিএনএ প্রতিটি মানুষের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে  এই জেনেটিক বৈচিত্র্যগুলো বিভিন্ন অসুখে কোনো ভূমিকা পালন করে কি-না তা বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীদের সহায়তা করবে

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২২, ০৬:০২ পিএম

দীর্ঘ গবেষণার পর অবশেষে সম্পূর্ণ মানব জিনোম প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) প্রকাশিত এই সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্বের ৭.৯ বিলিয়ন মানুষের মধ্যে রোগ-সৃষ্টিকারী মিউটেশন এবং জিনগত পরিবর্তন সম্পর্কিত সূত্রের সন্ধানে নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

গবেষকরা ২০০৩ সালে মানব জিনোমের সম্পূর্ণ ক্রম উন্মোচন করেছিলেন। কিন্তু এর প্রায় ৮%-ই সম্পূর্ণরূপে পাঠোদ্ধার করা হয়নি। কারণ, ডিএনএ’র অত্যন্ত পুনরাবৃত্তিমূলক কিছু অংশ রয়েছে যা বাকি অংশগুলোর সঙ্গে মেশানো কঠিন।

বিজ্ঞানীদের একটি দল সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় জিনোমের ক্রমটির পাঠোদ্ধার করেছেন। কাজটি আনুষ্ঠানিক পিয়ার পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার আগে গত বছর প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, কোষের সম্পূর্ণ ডিএনএ বিন্যাসের ক্রমই জিনোম সিকোয়েন্স। জিনোম যত দীর্ঘ, তার মধ্যে ধারণ করা তথ্যের পরিমাণও তত বেশি। ডিএনএ কতটা দীর্ঘ হবে সেটি পরিমাপ করা হয় ক্ষারক-জোড় (বেস-পেয়ার) বা বিপি হিসেবে। 

ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের ন্যাশনাল হিউম্যান জিনোম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর এরিক গ্রিন বলেন, “সত্যিকারের একটি সম্পূর্ণ মানব জিনোম সিকোয়েন্স তৈরি করা একটি অবিশ্বাস্য বৈজ্ঞানিক কৃতিত্বের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি আমাদের ডিএনএ ব্লুপ্রিন্টের প্রথম স্পষ্ট ছবি।”

তিনি বলেন, “এই মৌলিক তথ্য মানব জিনোমের সমস্ত কার্যকরী সূক্ষ্মতা বোঝার জন্য অনেক চলমান প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করবে, যার ফলস্বরূপ মানব রোগের জেনেটিক গবেষণাকে আরও শক্তিশালী করবে।”

গবেষণায় ৩.০৫৫ বিলিয়ন বিপি এবং ১৯ হাজার ৯৬৯টি জিন এনকোড করা হয়েছে। এই জিনগুলোর মধ্যে, গবেষকরা প্রায় ২ হাজার নতুন জিন শনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ অক্ষম হলেও ১১৫টি জিন সক্রিয় থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। এছাড়া, বিজ্ঞানীরা প্রায় ২ মিলিয়ন অতিরিক্ত জেনেটিক বৈকল্পিক খুঁজে পেয়েছেন, যার মধ্যে ৬২২টি চিকিৎসাগতভাবে প্রাসঙ্গিক জিনে উপস্থিত ছিল।

একে সমস্ত ক্রোমোজোমের প্রান্তে পাওয়া কাঠামোর নামানুসারে “টেলোমেয়ার-টু-টেলোমেয়ার (টিটুটি) নাম দিয়েছেন গবেষকরা। টিটুটির গঠন বেশিরভাগ জীবন্ত কোষের নিউক্লিয়াসে থ্রেডের মতো যা জিনের আকারে জেনেটিক তথ্য বহন করে।

“ভবিষ্যতে, যখন কারও জিনোম সিকোয়েন্স করা হবে, তখন আমরা তাদের ডিএনএ-তে সমস্ত রূপ শনাক্ত করতে পারব এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও ভালভাবে পরিচালিত করতে সেই তথ্য ব্যবহার করতে পারব,” টিটুটি’র অন্যতম গবেষক অ্যাডাম ফিলিপি বলেন।

“সত্যিই মানুষের জিনোম সিকোয়েন্স শেষ করাটা এক জোড়া নতুন চশমা চোখে পরার মতো। এখন আমরা পরিষ্কারভাবে সবকিছু দেখতে পাচ্ছি কারণ আমরা এর অর্থ কী তা বুঝতে আরও এক ধাপ এগিয়েছি,” ফিলিপি বলেন।

বিজ্ঞানীরা বলেন, নতুন ডিএনএ সিকোয়েন্সগুলো সেন্ট্রোমিয়ার নামে পরিচিত অঞ্চল সম্পর্কে নতুন বিশদ তথ্য প্রদান করেছে, যেখানে প্রতিটি “কন্যা” কোষ সঠিক সংখ্যক ক্রোমোজোমের উত্তরাধিকারী হচ্ছে তা নিশ্চিত করার জন্য কোষগুলো বিভক্ত হওয়ার সময় ক্রোমোজোমগুলোকে ধরে ধরে আলাদা করা হয়।

জিনোমের পূর্বে হারিয়ে যাওয়া এই অংশগুলোর সম্পূর্ণ ক্রম উন্মোচন করা কীভাবে জিনগুলো সংগঠিত হচ্ছে সে সম্পর্কে অনেক কিছু বুঝিয়েছে যা অনেক ক্রোমোজোমের ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ অজানা ছিল বলে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টডক্টরাল ফেলো, নিকোলাস আলটেমোস বলেন।

About

Popular Links