Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৭০ বছর দেখা হয়নি, ৯৪ বছর বয়সে বিয়ে!

কাও বলেন, ‘যদিও আমাদের ৭০ বছর দেখা হয়নি, এরপরও একে অপরকে খুবই চেনা মনে হতো। আমরা একা ছিলাম ও সঙ্গী খুঁজছিলাম। এটাই হয়তো ভাগ্য’

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২২, ১১:৩৬ এএম

ভালোবাসা যে বয়সের সীমায় আটকে থাকে না, কিংবা সময়ের পরিক্রমায় লীন হয়ে যায় না; সেটারই যেন প্রমাণ দিলেন চীনের ৯৪ বছর বয়সী জু গুইঝেন ও কাও ঝেনওয়েই দম্পতি।

জু গুইঝেন ও কাও ঝেনওয়েইর বাবারা একে অপরের বন্ধু ছিলেন, ব্যবসাও করতেন একসঙ্গে। পারিবারিক বন্ধুত্ব থেকে জু ও কাওয়ের মধ্যেও বন্ধত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জুর বাবা চাইতেন, কাও তার মেয়েকে বিয়ে করুক। কিন্তু কাওয়ের সঙ্গে অন্য মেয়ের সম্পর্ক ছিল। ফলে শেষ পর্যন্ত জু ও কাওয়ের বিয়েটা হয়নি। জুর অন্য ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়। 

২৪ বছর বয়সে শেষবার দেখা হয় জু ও কাওয়ের। এর ৭০ বছর পর আবার দেখা। সেই দেখার পর ৯৪ বছর বয়সে গাঁটছড়া বাঁধেন তারা।

২০১৯ সালে কাওয়ের বয়স তখন ৯৩ বছর। এ বছর কাওয়ের সঙ্গে জুর ছোট ভাইয়ের দেখা হয়। কাও তার কাছে জুর ব্যাপারে জানতে চান। জুর ছোট ভাইয়ের উৎসাহে তাদের আবার দেখা হয়। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে হয় তাদের বিয়ে। সম্প্রতি এ প্রতিবেদনে তাদের বিয়েরে বিষয়টি তুলে ধরেছে চীনের সংবাদমাধ্যম চায়না ডেইলি।

প্রতিবেদনে বলা হয়,  ১৯২৬ সালে চীনের শানডং প্রদেশের ওয়েইহাই শহরে জু ও কাওয়ের জন্ম। ১৬ বছর বয়সে প্রথম দেখা হয় তাদের। জু ও কাওয়ের বাবা ওয়েইহাই শহরে একটি স্টুডিও চালাতেন। জাপানের সেনাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীনের প্রতিরোধযুদ্ধের সময় ১৯৩৭ সালে দুই পরিবার একসঙ্গে সাংহাইয়ে পাড়ি জমায়। সেখানকার একটি ফটো স্টুডিওতে কাওকে প্রথম দেখেন জু। 

কাওয়ের সঙ্গে আবার কথা হওয়া প্রসঙ্গে জু বলেন, “আমি ফোনকল ধরার সঙ্গে সঙ্গে গলার আওয়াজ শুনে বুঝতে পারি, এটা তার (কাও) কণ্ঠ। পরে আমি তার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করি। কিন্তু আমার চিন্তা ছিল, তাকে চিনতে পারব তো? কারণ, বহু বছর তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি।”

কাও বলেন, “যদিও আমাদের ৭০ বছর দেখা হয়নি, এরপরও একে অপরকে খুবই চেনা মনে হতো। আমরা একা ছিলাম ও সঙ্গী খুঁজছিলাম। এটাই হয়তো ভাগ্য।”

বিয়ের পর জু ও কাও একটি নার্সিং হোমে ওঠেন। সেখানে ৩০ বর্গমিটারের একটি কক্ষে থাকছেন এই দম্পতি ।

About

Popular Links