Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রাণ ফিরল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে

দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাস ফেরায় এবং হলগুলো খুলে দেওয়ায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। উৎসবের হাওয়া লেগেছে প্রত্যেকের মনে

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২১, ০৫:১৩ পিএম

দেড় বছরেরও বেশি সময় পর সোমবার (১১ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হল খুলে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ টি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের ফুল, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এক ডোজ টিকা নেওয়ার শর্তে শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলে ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করছেন। হলে প্রবেশের সময় পরীক্ষা করা হচ্ছে শরীরের তাপমাত্রা, স্যানিটাইজ করা হচ্ছে হাত। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নির্দেশিকাও।

দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাস ফেরায় এবং হলগুলো খুলে দেওয়া উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। উৎসবের হাওয়া লেগেছে প্রত্যেকের মনে। আবারও প্রাণের স্পন্দন ফিরে পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবিদ হোসেন বলেন, “মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হওয়ায় আর অল্প কিছুদিন হলে আছি। তাই হলে ওঠার এ সুযোগ হারাতে চাইনি। আর হল এভাবে আমাদের বরণ করে নেবে তা ভাবিনি। দীর্ঘদিন পরে এভাবে হলে ফিরতে পেরে প্রথমবর্ষের মতো অনুভূতি হচ্ছে।”

তবে জাবির ৪৯তম ব্যাচের (প্রথম বর্ষ) সব শিক্ষার্থী এখনই হলে উঠতে পারছেন না। যাদের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং করোনাভাইরাসের অন্তত এক ডোজ টিকা নিয়েছে তারা স্ব-স্ব হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে হলে উঠতে পারবেন।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এতে কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, তারা ক্যাম্পাসে ক্লাস শুরুর পাঁচদিন পরই মহামারির কারণে হল বন্ধ হয়ে যায়। দেড় বছর ধরে হলে ফেরার জন্য মুখিয়ে আছেন তারা। কিন্তু হল খুললেও তারা উঠতে পারছেন না এটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট কোনো কক্ষ নেই। তারা গণরুমে থাকেন। করোনাভাইরাসের এই মহামারির মধ্যে গণরুম স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা তাদের গণরুমে উঠতে দিচ্ছি না। মাস্টার্সের অনেক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, অনেকের শেষ হওয়ার পথে। তাদের পরীক্ষা শেষে হলেই আবাসিক হলে আসন খালি হবে। তখন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে ওঠানো হবে।”

এদিকে যেসব শিক্ষার্থী করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণ করেননি তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া গবেষণা কেন্দ্রে অস্থায়ী টিকা ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। 

বেলা সাড়ে ১০টার দিকে এ টিকা ক্যাম্প উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। এই ক্যাম্পে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এসএমএস পাননি বা এনআইডি কার্ড না থাকায় টিকা নিতে পারেননি, তাদেরকে টিকার ব্যবস্থা করা হবে।

টিকারকেন্দ্রের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মীরজাদী সেব্রিনা জানান, দেশের ৮০% মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০% মানুষ টিকার আওতায় এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত তৃতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার অনুমোদন দেয়নি। অনুমোদন দিলে বাংলাদেশও তা অনুসরণ করবে।

মীরজাদী সেব্রিনা আরও বলেন, “আমরা পর্যায়ক্রমে সবাইকে টিকার আওতায় নিয়ে আসব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেভাবে ও যে টিকাগুলোর অনুমোদন দিয়েছে এবং যখন যাদের টিকা দেওয়ার অনুমোদন দিচ্ছে, আমরা সেভাবেই অনুসরণ করছি। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের জন্য একটি টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন দিয়েছে, সেই টিকা এখন আমাদের দেশে আছে। টিকাগুলো দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে কবে, কোথায়, কীভাবে কম বয়সীদের টিকা দেওয়া হবে।”

এছাড়া সোমবার থেকে চালু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো বাস সার্ভিস। রবিবার (১০ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আলী আজম তালুকদার এ তথ্য জানান।

অধ্যাপক আলী আজম তালুকদার বলেন, “আগামী ১১ অক্টোবর থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য ৬টি বাস চলবে। তবে শুক্রবার ও অন্যান্য ছুটির দিন চলবে ৫টি বাস। এছাড়া ২১ তারিখ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য মোট বাস চলবে ১৫টি। এর মধ্যে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে ৯টি বাস। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য বর্তমানে চলছে ৬টি বাস তবে ২১ তারিখ থেকে এ সংখ্যা বেড়ে হবে ১৩টি। শিক্ষার্থীদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করার কথা বলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করা হবে।”

উল্লেখ্য, দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের মার্চে অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাবি একাডেমিক কার্যক্রম ও আবাসিক হল বন্ধ করে। পরে গত ২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সভায় আজ ১১ অক্টোবর হল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

About

Popular Links