Tuesday, June 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ডা. মুরাদকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:১৬ পিএম

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার নাতনিসহ বেশ কয়েকজনের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের বিষয়টি জানান।

ওবায়দুল কাদেরের সংবাদ সন্মেলনের আগে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর আদেশের বিষয়টি ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, “সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করেন। তখন তিনি (প্রধানমন্ত্রী) তাকে (ওবায়দুল কাদের) বলেন, মঙ্গলবার সকালের মধ্যে তাকে (ডা. মুরাদ হাসান) পদত্যাগ করতে হবে, নইলে আমি তাকে বরখাস্ত করব।”

সংবাদ সন্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, “তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে আগামীকালের মধ্যে পদত্যাগ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, এ বিষয়টা আমি যাতে জানিয়ে দেই। আজ রাত ৮টার দিকে আমি তাকে বার্তাটি জানিয়ে দিয়েছি।”

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান খালেদা জিয়ার চরিত্র নিয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি জাইমা রহমানকে নিয়েও অত্যন্ত অশালীন বক্তব্য দেন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের নিয়েও অনুরূপ বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ উঠে।

ছাত্রলীগের নেত্রীদের নিয়ে তার বক্তব্যের একটি ক্লিপ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসানের পদত্যাগ দাবি করেন ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেত্রীরা।

এ বিষয়ে নারী অধিকার সংগঠন নারীপক্ষের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান এবং নাতনি জাইমা রহমান সম্পর্কে যে নোংরা গালাগালি করেছেন, এ জন্য তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি।

এদিকে, প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের নেত্রীরা বলেন, “বিরোধী দলের হোক বা নিজের দলের- সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে এভাবে কেউ কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে পারেন না।”

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে “অশোভন এবং নারীবিদ্বেষী” অ্যাখ্যা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন বলেন, “জনগণের সেবক হতে তিনি যে শপথ নিয়েছিলেন সে হিসেবে এটা তিনি করতে পারেন না। তিনি নারীবিদ্বেষ বর্ণবিদ্বেষ এবং যে ধরনের অশোভন শব্দ-বাক্য চয়ন করেছেন, আমি মনে করি তিনি প্রজাতন্ত্রের প্রতিমন্ত্রীর পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।”

About

Popular Links