Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সতর্ক থাকুন শিশুর খাদ্যাভাসে

শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করা জরুরি

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:৩৮ পিএম

অনেকেরই ধারণা, শিশুরা সবই খেতে পারে। অল্প বয়সে স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং বিভিন্ন রোগের শারীরিক জটিলতা না থাকায় শিশুদের খাবার নিয়ে কেউ বাড়তি চিন্তা করেন না। তাছাড়া মা-বাবা থেকে শুরু অনেক আত্মীয়স্বজনই শিশুদের প্রিয় মিষ্টি, চকলেট, মুখরোচক ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড ইত্যাদি দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করতে চায়। কিন্তু এমনটা করা একদমই উচিত না।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের ভাষ্যমতে, আমরা আজকের খাদ্যাভ্যাস শুধুমাত্র আগামীকাল নয় বরং ভবিষ্যতেও ফলাফল দেখাবে। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য যত দ্রুত সম্ভব শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করতে হবে। আর শিশুর সুস্বাস্থা এবং খাদ্যাভ্যাস অনেকটাই মা-বাবার ওপর নির্ভরশীল। তাই শিশুদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের কিছু দিকে খেয়াল রাখা উচিত-

সকালের নাস্তা না এড়ানো

নিজেদের কর্মব্যস্ত জীবনের তাড়াহুড়া হোক কিংবা বাচ্চাদের স্কুল ধরার তাড়া, অনেক সময় শিশুদের সকালের নাস্তা এড়িয়ে যান অভিভাবকরা। কিন্তু শৈশব যেহেতু শিশুদের জন্য মেধা বৃদ্ধি এবং বিকাশের সময়, তাই সকালের নাস্তার মতো খাবার এড়িয়ে যাওয়া তাদের স্বাস্থ্যকে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কিংস কলেজ লন্ডনের করা একটি সমীক্ষা অনুযায়ী,  সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া শিশুরা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক পুষ্টি উপাদান গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয় বিধায় তারা অপুষ্টির ঝুঁকিতে পড়ে। অন্যদিকে, সকালের নাস্তা বাদ না দেওয়া শিশুরা নিয়মিত ক্যালসিয়াম, আয়রন, আয়োডিনের মতো পুষ্টি উপাদান পেয়েছে।

প্রতিদিন চর্বিযুক্ত খাবারকে ‘না’

শৈশবের চঞ্চলতার পর ক্লান্তিতে ক্ষুধার্ত শিশুরা স্বভাবতই মুখরোচক খাবার খেতে চায়। এক্ষেত্রে অভিভাবকরাও সন্তানকে বিভিন্ন ফাস্টফুড ও ভাজাপোড়া খাবার দিয়ে থাকেন। কিন্তু এসব চর্বিযুক্ত খাবারে থাকা রিলিন নামের একটি উপাদান মস্তিষ্কের সিন্যাপ্সকে সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করা মূল প্রোটিনের মাত্রা হ্রাস করে। সুইস গবেষকদের পরিচালিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, আচরণগত নমনীয়তা এবং স্মৃতিশক্তিকে রিলিনের নিম্নস্তর বাধাগ্রস্ত করে। পাশাপাশি স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং আরও অনেক সমস্যাও ডেকে আনে। ফলে পরবর্তী জীবনে আলঝাইমার্স রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার

চকলেট, ক্যান্ডি, বাবল গাম, আইসক্রিম, কোমল পানীয় তো সব শিশুরই পছন্দ। অল্প বয়সে চিনি শিশুদের জন্য ক্ষতিকর না মনে করে অনেক অভিভাবকই মিষ্টিজাতীয় খাবারের দিকে খেয়াল রাখেন না। কিন্তু মিষ্টিজাতীয় খাবারে থাকা চিনি অল্পবয়সীদেরও প্রভাবিত করে। একটি ভারতীয় সমীক্ষায় দেখা যায়, শিশুরা প্রতিদিন তাদের প্রয়োজনের তুলনায় তিনগুণ বেশি চিনি খাচ্ছে! তাই শিশুদের চিনি খাওয়ার দিকে নজর রাখা আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মিষ্টি খাবার থেকে শিশুদের পুরোপুরি বঞ্চিত করা অনুচিত। শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় মিষ্টিটুকু খেতে দিয়ে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ক্ষতিকর দিক নিয়ে তাকে বুঝিয়ে বলুন।

প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি রাখা

শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি, মেধা বিকাশের ও সুস্থতার জন্য সবুজ শাকসবজি অপরিহার্য। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর জীবনের প্রথম দিকে একটি নতুন সবজির সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দিলে তারা বড় হয়েও সেটি খাওয়ার অভ্যাস ধরে রাখে। তাই শিশুর দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি রাখুন। এক্ষেত্রে সবজি দিয়ে আকর্ষণীয় উপায়ে টিক্কি, পাকোড়া, স্যান্ডউইচ, বেকড ওয়াফেলস, সালাদ এবং নুডলসের মতো সুস্বাদু খাবার তৈরি করে শিশুকে খাওয়াতে পারেন।

ঘরের খাবারে অভ্যস্ততা বাড়ানো

বাইরের খাবারের চেয়ে ঘরের খাবার স্বাভাবিকভাবেই শিশুদের কাছে বিরক্তিকর লাগতে পারে। কিন্তু তাই বলে বাইরের খাবারে তাদের অভ্যস্ত হতে দেওয়া ঠিক হবে না। অনেক শিশুই ঘরে বানানো খাবারের চাইতে বাইরের ফাস্টফুড ও ভাজাপোড়া খেতে পছন্দ করে। এক্ষেত্রে তাদের পছন্দ করা খাবারই বাড়িতে স্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি করুন। যেমন যদি তারা পিজ্জা পছন্দ করে, তাহলে হোলগ্রেইন আটা এবং তাজা অপ্রক্রিয়াজাত উপাদান ব্যবহার করে বাড়িতে তা তৈরি করে দিন। তারা তেলে ভাজা খাবার খেতে পছন্দ করলে এর পরিবর্তে সেঁকে নেওয়া খাবার খেতে দিন। এতে শিশু যেমন তার পছন্দের খাবার পাবে, তেমনি ঘরের খাবারেও অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।

About

Popular Links