Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

উত্তরাখণ্ডে বিয়ে না করে একসঙ্গে থাকতে হলে লাগবে সরকারি নিবন্ধন

  • ‘লিভ ইন’ থেকে বেরিয়ে আসতে গেলেও লাগবে অনুমতি
  • লিভ ইনের ফলে সন্তানের জন্ম হলে, সেই সন্তান পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:১৭ পিএম

বিয়ের আগেই কোনো নারী ও পুরুষের একসঙ্গে বসবাস করাকে সাধারণত “লিভ-ইন” বলা হয়। “লিভ-ইন” বিষয়টি নিয়ে একেক সমাজে একেক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। কোথাও বিষয়টি বৈধ, কোথাও আবার অবৈধ।

ভারতের উত্তরাখণ্ডে প্রস্তাবিত একটি আইন অনুযায়ী, বিয়ে ছাড়া কিংবা বিয়ের আগেই যদি কোনো নারী ও পুরুষ একসঙ্গে বসবাস করতে চান; তবে তাদের নিতে হবে প্রশাসনের অনুমতি। করতে হবে সরকারি নিবন্ধন। এমনকি “লিভ ইন” সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে গেলেও লাগবে সরকারি অনুমতি।

সম্প্রতি ভারতের উত্তরাখণ্ড সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি বিল পেশ করা হয়েছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত এই বিলে বিয়ে ও লিভ ইন সম্পর্ক বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কেউ লিভ ইন সম্পর্কে থাকতে পারবেন না। দরকার হলে পুলিশের তদন্তও হবে। নথিভুক্ত না করে লিভ ইনে থাকলে বা বিয়ে নথিভুক্ত না করলে ছয় মাসের জেল, ২৫ হাজার টাকার জরিমানা বা দুটোই হতে পারে।

এতে বলা হয়েছে, লিভ ইন সম্পর্ক নথিভুক্ত করার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হবে। সেখানে লিভ ইনের জন্য আবেদন করতে হবে। সেই আবেদন যাচাই করে দেখা হবে। জেলা রেজিস্ট্রার বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন। এই তদন্তের বিষয় হবে ওই সম্পর্ক বৈধ কি-না তা দেখা। নথিভুক্ত করার সময় বা পরে তা ছিন্ন করার সময় রেজিস্ট্রার চাইলে পুলিশি তদন্ত করাতে পারবেন।

যদি রেজিস্ট্রারের মনে হয়, ওই সম্পর্ক সরকারি নীতি ও নৈতিকতার বিরোধী তাহলে তিনি  লিভ ইনের অনুমতি নাও দিতে পারেন। কোনো সঙ্গী বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ থাকলে, অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে, জালিয়াতি, জবরদস্তি, পরিচয় গোপন করে লিভ ইন করতে গেলে রেজিস্ট্রার তার অনুমতি দেবেন না। তবে এই ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রারকে তদন্ত প্রদিবেদনে কারণ উল্লেখ করতে হবে।

এছাড়া, লিভ ইন থেকে বেরিয়ে আসতে গেলেও অনুমতি লাগবে। তখন কারণ অনুসন্ধান করে দেখতে পারবেন রেজিস্ট্রার। প্রয়োজনে বাবা-মা বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তিনি ডেকে পাঠাতে পারবেন।

লিভ ইন সম্পর্ক নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে এক মাস বা তার বেশি দেরি হলে তিন মাসের জেল বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা দুটোই হতে পারে।

লিভ ইনের ফলে সন্তানের জন্ম হলে, সেই সন্তান পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে। সেই সন্তানকে কোনোভাবেই বেআইনি বলা যাবে না। যদি কোনো নারীকে তার পুরুষ সঙ্গী ছেড়ে চলে যান, তবে তিনি খোরপোষের অধিকারী হবেন।

উত্তরাখণ্ডের মানুষ রাজ্যের বাইরে গিয়ে লিভ ইন করতে চাইলেও তাদের সম্পর্ক উত্তরাখণ্ডে নথিভুক্ত করতে হবে বলে প্রস্তাবিত বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও এমন আইনের বিরোধীতা করছেন অনেকে। তাদের অভিযোগ, এমন আইন করলে লিভ ইন সম্পর্কের কোনো মানেই থাকবে না।

এ প্রসঙ্গে ভারতীয় সাংবাদিক জয়ন্ত ভট্টাচার্য ডয়চে ভেলেকে বলেন, “লিভ ইন তো করাই হয়, একজন ছেলে ও মেয়ে বিয়ের সম্পর্কে যাবে কি-না, তা কিছুদিন একসঙ্গে থেকে যাচাই করার জন্য অথবা বিয়ের দায়িত্ব ও জটিলতার বাইরে থাকার জন্য। কিন্তু উত্তরাখণ্ডে যে আইন করা হচ্ছে, তাতে তো লিভ ইন আর বিয়ের মধ্যে কোনো ফারাক থাকবে না। আর পুরো বিষয়টাই সরকারি অনুমোদনের মুখাপেক্ষি হয়ে থাকবে।”

ভারতে একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনধারণের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সরকার কোনোভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে কি-না, তা নিয়ে অতীতে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সেই বিতর্ককে আবার উসকে দিতে পারে বলে মনে করেন জয়ন্ত ভট্টাচার্য।

About

Popular Links