Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফেসবুক পোস্টের কারণে বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা যা বললেন

‘আমার ফেসবুক পোস্টে সরকার বা দলীয় প্রধানের নাম আমি উল্লেখ করিনি। আমি কেবল জনদাবির কথাগুলো বলার চেষ্টা করছি’

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪:০৮ পিএম

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেছেন, “সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিকভাবে আমার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমার ফেসবুক পোস্টে সরকার বা দলীয় প্রধানের নাম আমি উল্লেখ করিনি। আমি কেবল জনদাবির কথাগুলো বলার চেষ্টা করছি।”

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে ডা. বাহারুল বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা ট্রিবিউনকে এ কথা বলেন।

এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগে বুধবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরী সভায়ডা. শেখ বাহারুল আলমকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় কারণে ডা. বাহারুলের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে ডা. বাহারুলকে দল থেকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না সে বিষয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

ডা. বাহারুল আলম বলেন, “শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনতে হলে অবশ্যই অভিযুক্ত সদস্য বা নেতাকে নোটিশ দিতে হয়। কী বক্তব্যে গঠনতন্ত্রের কোনও ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে, তা তাকে জানাতে হয়। তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়। প্রয়োজন হলে তার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হয়। এর কোনোটাই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করেননি। নির্ধারিত কোনও সভা ছিল না। ওইদিন যে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সে সভা পূর্বনির্ধারিত কোনও সভাও ছিল না। সভায় আমার বিষয়টি নিয়ে কোনও এজেন্ডাও ছিল না। অন্য একটি বিষয়ে সভা চলছিল। সেখানে থেকে নেতাকর্মীদের ডেকে এনে অগঠনতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুরোটাই ওনার (সভাপতির) একতরফা কাজ। এক ধরনের স্বৈরাচারী প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই তিনি এ কাজ করেছেন। অভিযোগ আনতে হলে ওনার (সভাপতি) বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনতে হয়। কারণ উনি (সভাপতি) দলের গঠনতন্ত্র নিয়মনীতি কিছুই মানেন না।”

ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ডা. বাহারুল আলমের ফেসবুক স্ট্যাটাস। ছবি: স্ক্রিনশট

ডা. বাহারুল আলম বলেন, “রাজনৈতিক দলের একজন সদস্য তার দেশের স্বার্থ, তার দেশের বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্র বা দেশের ভূমিকা নিয়ে কিছু কথা বলতেই পারেন। সে বিষয়ে ভিন্নমতও থাকতে পারে। ভারতের বিষয় নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন কথা বলার চেষ্টা করেছি। আমাদেরও কিছু স্বার্থ আছে। আমাদের জনগণের কিছু দাবি-দাওয়াও আছে, যা উপেক্ষিত হওয়া ঠিক না। এ বিষয় নিয়ে আমার ফেসবুক পোস্টে তিনি কোথায় আওয়ামী লীগের শৃঙ্খলা ভঙ্গ পেলেন? আমার কোনও মতামতও তিনি নেননি। আমি কোনও চিঠিও পাইনি। তবে শুনেছি। বিষয়টি সত্য নয়। ফলে মোকাবিলা করার কিছু নেই। চিঠিও পাইনি এখনও। চিঠি পেলে প্রতিটি লাইন ধরে ধরে জবাব দেওয়া হবে।”


আরো পড়ুন - ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে স্ট্যাটাস, আওয়ামী লীগ নেতা বহিষ্কার


এদিকে ডা, বাহারুলকে বহিষ্কারের বিষয়ে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতা ডা. বাহারুল আলম তার ফেসবুক পোস্টে যা লিখেছেন, সেখানে সরকার এবং দলের প্রধান বিরোধী বক্তব্য আসছে। আমাদের জানা মতে দলীয় প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা যা করেছেন তার সবই দেশের স্বার্থে, বাংলাদেশে স্বার্থেই করেছেন। এখানে দেশের স্বার্থ উপেক্ষিত হওয়ার বিষয়ে ডা. বাহারুল আলম যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয়। জাতির জনক বাংলাদেশের জন্য আন্দোলন করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। তার বাংলাদেশে কখনো স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা থাকবে না−এমন কোনও চুক্তি জননেত্রী শেখ শেখ হাসিনা করতে পারেন না। যার অনেক নজির আছে। বিগত দিনে দেশের কোনও সরকার বা দলীয় প্রধানের এ ধরনের নজির নেই। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাই দেশের প্রথম, যিনি দেশের স্বার্থ একচুলও ছাড় দেন না। তার বিষয় নিয়ে ডা. বাহারুল আলম যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিন্দনীয় এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণেই দলীয় জরুরি সভা করে আমরা তাকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজকের মধ্যে তিনি চিঠিও পেয়ে যাবেন। সদুত্তর না পেলে আমরা তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠাবো।”

About

Popular Links