Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আবরারের পরিবারের সাথে দেখা করতে দেয়া হলো না বিএনপি নেতাদের

রায়ডাঙ্গা গ্রামে আবরারে বাসায় পৌঁছানোর আগেই লালন শাহ সেতুর ভেড়ামারা টোল প্লাজা থেকে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৪:৫৩ পিএম

পুলিশের বাধায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) হত্যাকাণ্ডের শিকার  আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেনি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাওয়া বিএনপির প্রতিনিধি দল।

রবিবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবরারের বাসায় পৌঁছানোর আগেই পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের লালন শাহ সেতুর ভেড়ামারা অংশের টোল প্লাজা থেকেই তাদের ফেরত পাঠানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম।

জানা যায়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানসহ বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আবরারের পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য রবিবার সকালে কুষ্টিয়া পৌঁছান । কিন্তু রায়ডাঙ্গা গ্রামে আবরারে বাসায় পৌঁছানোর আগেই লালন শাহ সেতুর ভেড়ামারা টোল প্লাজায় তাদের আটকায় পুলিশ। পরে পুলিশের বাধার মুখে বেলা ১১.৪০ মিনিটে সেখান থেকেই ফিরে আসেন বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।    

আমান উল্লাহ আমান ছাড়াও প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী রুমি ও সাধারণ সম্পাদক সোহবার উদ্দিন। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিম-উল হাসান অপু অভিযোগ করেন, "নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কেন্দ্র থেকে ঘোষিত কর্মসুচি পালনের জন্য ঢাকা থেকে  বিএনপির প্রতিনিধি দল এসেছিল। কিন্তু লালন শাহ সেতু থেকেই তাদের ফেরত পাঠানো হয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।"

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মেহেদী রুমী বলেন, "আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের সমবেদনা জানাতে নেতৃবৃন্দ ঢাকা থেকে এসছিলেন। এছাড়াও আরও অনেক পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল। কিন্তু পুলিশের বাধায় কোনও কিছুই করতে পারলাম না।"

এদিকে প্রসঙ্গে ভেড়ামাড়া থানার ওসি আব্দুল আলীম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "যেহেতু গত ৯ অক্টোবর বুয়েট ভিসি আবরারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল।  তাই নতুন করে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে তাদেরকে রায়ডাঙ্গা গ্রামে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।"

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৯ অক্টোবর আবরার ফাহাদের পরিবারের সাথে দেখা করা উদ্দেশে কুষ্টিয়া যান বুয়েটের উপাচার্য ড. সাইফুল ইসলাম। তবে, আবরারের কবর জিয়ারত করে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করতে গেলে স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে পড়েন তিনি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় সেখান থেকে ফিরে আসেন বুয়েটের উপাচার্য।

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীকে। ওইদিন রাত তিনটার দিকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ৭ অক্টোবর রাজধানীর লালবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়।

About

Popular Links