• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০ সকাল

অক্টোবরে মাঠে নামবে বিএনপি

  • প্রকাশিত ০৪:৪০ বিকেল সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮
BNP

নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে সারা দেশের ৩০০টি আসনের প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রকে ভিত্তি করে প্রায় ৪০ হাজার কমিটি করছে বিএনপি। যাতে করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ভোটে কোনো ধরনের অনিয়ম করতে না পারে।

চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে সরকারকে বাধ্য করতে অন্যান্য দলগুলোকে সাথে নিয়ে অক্টোবরে ‘সংক্ষিপ্ত ও কার্যকরী’ আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।

বিএনপি সূত্র জানায়, সরকারের সাথে দাবি আদায়ের আন্দোলনের মধ্যেই একাদশ নির্বাচনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে সারা দেশের ৩০০টি আসনের প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রকে ভিত্তি করে প্রায় ৪০ হাজার কমিটি করছে বিএনপি। যাতে করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ভোটে কোনো ধরনের অনিয়ম করতে না পারে।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা ইউএনবিকে বলেন, তারা এখন আন্দোলনকে সফল করার জন্য বিভিন্ন কৌশল ও কর্মসূচি নির্ধারণ করছেন। যাতে সারাদেশ বিশেষ করে রাজধানীকে অচল করে ১০-১৫ দিনের মধ্যেই আন্দোলনের ফলাফল পেতে পারেন।

তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন ছোট আকারের সরকার ঘোষণার মাধ্যমে রুটিন ওয়ার্কের দায়িত্ব নেয়ার পরই বিএনপি তাদের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

আন্দোলনে নামার পূর্বে ২০ দলীয় জোটকে নেতৃত্ব দেয়া বিএনপি নেতারা বলেন, তারা আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য সব দলকে সাথে নিয়ে আন্দোলনে নামবেন, যাতে সরকার দাবি মানতে বাধ্য হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, অন্যান্য দলকে সাথে নিয়ে খসড়া ও কাঠামো নির্ধারণ করে জাতীয় ঐক্য তৈরিতে কাজ করছেন তারা। অন্যান্য দলগুলোর সাথে বোঝাপড়ার মাধ্যমে আমরা একযোগে আন্দোলনে নামবো, বলেন এই নেতা।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচলকালীন সরকার ঘোষণার মাধ্যমে বর্তমান প্রশানের গুরুত্ব কমে যাবে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আসবে। তখনই আমরা আন্দোলনে যাবো এবং ১০-১৫ দিনের মধ্যেই ফলাফল পাবো।

বিএনপির ওই নেতা বলেন, আন্দোলনকে সফল করতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে শিগগিরই দলের সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন এলাকায় যাবেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবেন।

যোগাযোগ করা হলে বিএনপি মহাসচিব সির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শক্তিশালী আন্দোলন ছাড়া তাদের বিকল্প নেই। তবে যাই হোক না কনে, আমরা নিশ্চিতভাবে একটি শক্তিশালী আন্দোলনে যাচ্ছি। আন্দোলন ছাড়া নির্বাচনে যাওয়াটা অর্থহীন হবে।

বিএনপি একটি সফল ও কার্যকরি আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে জনগণকে সঠিক সময়ে রাস্তায় আসতে উদ্বুদ্ধ করবে। আমাদের প্লাস পয়েন্ট হলো জনগণ আমাদের সাথে আছে। আমরা যদি রাস্তায় নামি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের সাথে যোগ দিবে।

অন্যান্য দলের সাথে জাতীয় ঐক্যে প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ ব্যাপারে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের কাঠামো নির্ধারণে আমরা আলোচনা করে যাচ্ছি। আশা করছি, আমাদের জাতীয় ঐক্য হবে।

তিনি বলেন, একবার জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়ে গেলে, অন্যান্য দলকে সাথে নিয়ে একিই দাবিতে একযোগে আন্দোলনে যাবো।

বিএনপি মহাসচিব জানান, তারা এসময় দলের বিভিন্ন নেতাকরর্মীদেরকে আটক এবং দমনমূলক কার্যক্রমকে সাহসের সাথে মোকাবেলার জন্য উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন।

একাদশ জাতীয় নির্বচনের দিন ভোট বিপ্লব হবে উল্লেখ কলে ফখরুল বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের পাহাড়া দিবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা যেনো কেন্দ্র ত্যাগ না করে এজন্য সিনিয়র নেতাদের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত নির্দেশনা দেয়া হবে।

বর্তমান সরকার ৫-জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন করতে পারবে না জানিয়ে তিনি আরো বলেন, জনগণ ও বিদেশি বন্ধুদের উপেক্ষা করে সরকারের আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের করতে পারবে? বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সরকার বৈশ্বিকভাবে অনেক চাপে রয়েছে।