• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৭ রাত

সংরক্ষিত আসন নয়, সরাসরি ভোটের চ্যালেঞ্জ চান যে দু’জন নারী

  • প্রকাশিত ০৮:১১ রাত সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮
thakurgaon
সেলিনা জাহান লিটা (বামে) ও তাহমিনা আখতার মোল্লা। ছবি- ঢাকা ট্রিবিউন

ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে অধ্যক্ষ তাহমিনা আখতার মোল্লা ও ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে বর্তমানে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় সংরক্ষিত মহিলা এমপি সেলিনা জাহান লিটা এবার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন।

জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ে সরাসরি সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে কোনো মহিলা প্রার্থী কখনও প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেননি। তবে এই প্রথমবারের মতো জেলার দু’জন মহিলা প্রার্থী সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে অধ্যক্ষ তাহমিনা আখতার মোল্লা ও ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে বর্তমানে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় সংরক্ষিত মহিলা এমপি সেলিনা জাহান লিটা এবার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। 

সেলিনা জাহান লিটা

বর্তমানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সেলিনা জাহান লিটা ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাঁর বাবা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং এই আসনেরই সাবেক এমপি আলী আকবর। সেলিনা জাহানের নির্বাচন করার শুরুটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে, তিনি রাণীশংকৈল থেকে এই পদে পরপর দু’বার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এরপরই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আসেন। তাঁর স্মামী বিশিষ্ট গীতিকার , সাংবাদিক ও অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম। সেলিনা জাহান মনোনয়ন পেলে তা এ জেলায় প্রথম কোনো নারী প্রার্থী সরাসরি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়বেন।

তাহমিনা আখতার মোল্লা 

তৃণমূল পর্যায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উঠে আসা তাহমিনা আখতার মোল্লা এখন ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচিত এক নাম। বিগত পৌরসভা নির্বাচনে তিনি যদিও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোটো ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনের সাথে লড়াই করে হেরেছেন। তবে এই পরাজয়ের পেছনে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী বলে মনে করেন অনেকে। এর আগে তাহমিনা মোল্লা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা থেকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। কম বয়সে বিয়ে দেয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে ঘর ছেড়ে অনেক চড়াই-উৎরাই মোকাবেলা করে রাজনীতির লাইমলাইটে আসা তাহমিনা এখন সার্বক্ষণিক রাজনীতিবীদ। তাঁর এই চলার পথে কোনো পারিবারিক পটভূমি বা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ছিল না। তবে তাঁর এগিয়ে চলার পেছনে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া কৃতজ্ঞতা জানান আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মী এবং জনসাধারণের কাছে যারা খারাপ সময়েও তাঁকে ত্যাগ করেননি। 

তাহমিনা আখতার মোল্লা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত। ঠাকুরগাঁওয়ের একমাত্র ল কলেজের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। নিজেও আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা তাহমিনা এখন তাঁর প্রতিষ্ঠিত কলেজটির অধ্যক্ষ। 

তবে সরকারি দলের নেতা হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা দু’জনেই স্বীকার করলেন, নারীদের রাজনীতি করার পথ এখনো মসৃণ নয়। তাঁরা জানান, শুধু বাইরে নয়, নারী হওয়ার কারণে বৈরিতা মোকাবেলা করতে হয় পরিবারেও।