• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৪ দুপুর

ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন শেখ হাসিনা

  • প্রকাশিত ০৪:৪৭ বিকেল সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮
hasina
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এখানে বেওয়ারিশ লাশ দাফন হয়। এখানে আমি ও শেখ রেহানাও সাহায্য করি। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা দাবি করা ও চাঁদা না দেওয়ায় ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া, এটা আমি সহ্য করবো না।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের কমিটি ভেঙে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে রাজধানীর কাকরাইলে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের ভবন নির্মাণকাজে চাঁদা দাবি ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে সম্রাটের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এ নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে গণভবনে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে গেলে সম্রাটের নামে ওঠা এ অভিযোগ নিয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় কমিটি ভেঙে দিতে বলেন তিনি। এ সময় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর দুই নেতা এবং সহযোগী সংগঠনের এক নেতা জানান, এ সময় সম্রাটের পক্ষ নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আজম- সম্রাটের নাম ভাঙিয়ে এ কাজ অন্য কেউ করেছে দাবি করলে জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তুমি থামো।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এখানে বেওয়ারিশ লাশ দাফন হয়। এখানে আমি ও শেখ রেহানাও সাহায্য করি। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা দাবি করা ও চাঁদা না দেওয়ায় ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া, এটা আমি সহ্য করবো না।’ তিনি বলেন, ‘এখান থেকেও চাঁদা পেতে হবে।’ এ চাঁদাবাজ গ্রুপকে র্যা।ব দিয়ে ধরিয়ে দেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দিন-রাত পরিশ্রম করে সুনাম অর্জন করি, আর তারা সুনাম ক্ষুণ্ন করবে- এটা হতে পারে না। এ সময় সেখানে উপস্থিত অন্য নেতারা আর কোনও কথা বলেননি।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, দেশের বাইরে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের সারাদেশে সফরে পাঠানোর কথা জানিয়ে গেছেন। সরকারের উন্নয়ন ও নৌকার পক্ষে সারাদেশে গণজোয়ার সৃষ্টি করার জন্যে তাদের পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ লক্ষ্যে তাদের প্রস্তুতি নিতেও নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। 

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে গণভবনে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা সাক্ষাৎ করতে গেলে নির্বাচনি প্রচারে নামতে হবে জানিয়ে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সকালে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে যান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও সহযোগী সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতারা।



সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন