• বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৫ রাত

কাদের : সাত দফার ৩টিতে কোনো আপত্তি নেই

  • প্রকাশিত ১২:১২ দুপুর নভেম্বর ২, ২০১৮
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার দোগাছি এলাকায় পদ্মাসেতুর ‘ভিজিটরস সেন্টার’ উদ্বোধন করেন ওবায়দুল কাদের। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার দোগাছি এলাকায় পদ্মাসেতুর ‘ভিজিটরস সেন্টার’ উদ্বোধন করেন ওবায়দুল কাদের। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘পলিটিক্স শুড বি কম্পোমাইজড এ্যাট জাস্ট। আমরা জানি, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে হত্যাকারীকে তারা পুরষ্কৃত করেছেন এবং পঞ্চম সংশোধনী করে হত্যাকারীদের বিচার বন্ধ করেছিলেন।'

আওয়ামী লীগ ও ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে সংলাপ শেষ হয়েছে। সংলাপের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টের দেওয়া সাত দফা দাবির তিনটি বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো আপত্তি নেই। 

আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার দোগাছি এলাকায় পদ্মাসেতুর ‘ভিজিটরস সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। 

কাদের বলেন, ‘সংলাপের বিষয়ে আমরা আশাবাদী। অপজিশন কীভাবে রিয়েক্ট করে এটা তাদের ব্যাপার। আমি তো মনে করিনা এখানে ব্যর্থতার কিছু আছে। শুরুটা ভালো হয়েছে। তাদের সাত দফার তিনটি বিষয়ে আমাদের কোনো বাধা, আপত্তি থাকবে না। শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেছেন এই বিষয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই। দীর্ঘদিনের লং গ্যাপ, ডিস্টেন্সকে রাতারাতি ম্যাজিক্যাল ট্রান্সফরমেশন সম্ভব না, ক্লোজ করাও সম্ভব না। কিন্তু গতকাল কিছু বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। বিএনপি নেতা কর্মীদের যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মামলা আছে, ক্রিমিনাল অফেন্স ছাড়া শুধু রাজনৈতিক কারণে, তাহলে আমার কাছে তাদের তালিকা পাঠাতে বলেছি। এই তালিকা অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে।’ 

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘গতকাল সংলাপ শুরু হয়েছে। সংলাপ ৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। আগামীকাল জেলহত্যা দিবস। তাই কাল (সংলাপ) হবে না। ঐক্যফ্রন্টের ড. কামালের নেতৃত্বে মীর্জা ফখরুল, রব এসেছিলেন। সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে খোলামেলা পরিবেশে আলোচনা হয়। কেউ কেউ ২-৩ বার বক্তব্য রেখেছেন। ভালো আলোচনা হয়েছে। তারা চাইলে আবারো আলোচনা হতে পারে। দূরত্বটা বহুদিনের। টানা পোড়নের ক্ষেত্রে ২১ আগস্ট, ১৫ আগস্টের মতো সেনসিটিভ কিছু ইস্যু আছে। ২১ আগস্ট বিএনপির আমলে নৃশংস ঘটনা ঘটে। বেগম আইভি রহমানসহ ২২টি প্রাণ ঝরে গেছে। তারপরও আমরা কম্প্রোমাইজ করেছি।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম একজন প্রধানমন্ত্রী অপজিশনের সঙ্গে সংলাপ করছেন। এটি বাংলাদেশে নজিরবিহীন ঘটনা। আমরা দলের লোকজন এই বিষয়টি ভাবতে পারিনি। আমাদের মধ্যে ভিন্নমত ছিলো বিএনপির ব্যাপারে, থাকাটাও খুব স্বাভাবিক। তারপরও আমরা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। আমাদের সবার আস্থা আছে নেত্রীর ওপর। তিনি যা করবেন জাতীয় স্বার্থে করবেন। তিনি নিজের ওপর কী অপমান, তার জীবনের ওপর এটেম্প্ট, এগুলো ভুলে গিয়ে জাতীয় স্বার্থকে, গণতন্ত্রের ধারাকে অব্যাহত রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা যদি চান ছোট পরিসরে আবারো আলোচনা হতে পারে। এ ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্তের ওপর শেখ হাসিনা ছেড়ে দিয়েছেন। তারা যদি চান তাহলে আমাদের জানাতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমার দরজা খোলা, তারা যদি আবার আসতে চান।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘পলিটিক্স শুড বি কম্পোমাইজড এ্যাট জাস্ট। আমরা জানি, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে হত্যাকারীকে তারা পুরষ্কৃত করেছেন এবং পঞ্চম সংশোধনী করে হত্যাকারীদের বিচার বন্ধ করেছিলেন। তারপরও আমরা পলিটিক্স করি, একটি ওয়ার্কিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকা আবশ্যক। বেগম জিয়ার সন্তান কোকো মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা ছুটে গিয়েছিলেন কোকোর মাকে স্বান্তনা দিতে। কিন্তু সেখানে মূল ফটক, ভেতরের দরজা বন্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রী কন্যা অপমানজনকভাবে ফিরে আসলেন। বেগম জিয়া দেখা করলেন না। শুধু দেখা করাই নয়, দরজাই বন্ধ করে দিলেন। সেখান থেকে সম্পর্কের তিক্ততা কোথায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে এবং আমাদের আচ্ছন্নতা কোথায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে! ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট নিয়ে তৃক্ততা, বিরক্তির বিষয় ঘটে গেছে।’