• রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৩২ সকাল

মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় কাঁদলেন এমপি দারা

  • প্রকাশিত ১১:২২ রাত নভেম্বর ৩০, ২০১৮
সংসদ সদস্য কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সংসদ সদস্য কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন।

২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তার স্থলে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মনসুর রহমানকে

মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় কাঁদলেন রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা। শুক্রবার বিকেলে সাংসদ কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা ঢাকা থেকে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহের নিজ বাড়িতে ফিরলে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তার বাড়িতে এসে জড়ো হন। এসময় সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলার সময় এমপি দারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, “আমার পিতা রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন। আমার বাড়ির সামনেই মুক্তিযুদ্ধে দাদা চাচা ফুফুসহ অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ইচ্ছে করে আমাকে মনোনয়ন দিয়ে এমপি করেছিলেন। চেষ্টা করেছি, আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করে এলাকার মানুষের উন্নয়ন করার। আপনারা (সাংবাদিক ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে) জানেন, এই অঞ্চল জামায়াত-বিএনপি অধ্যুষিত অঞ্চল ছিলো। জানিনা কোথায় আমার ভুল, প্রধানমন্ত্রী আমার মায়ের মত, বোনের মত, চিন্তা করেছেন। আমাকে বলেছেন কাজ করতে। আমি আওয়ামী লীগের কাজ করতে এসেছি। সেই প্রত্যয় নিয়েই এসেছি”।

তিনি আরও বলেন, “যারা আওয়ামী লীগকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চেয়েছে, তারা এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। নেতাকর্মীদের অনুরোধ করবো-এই ষড়যন্ত্র থেকে আপনারা সাবধান থাকবেন। যে সর্বনাশ আপাতত আমার হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, এটি কোন সর্বনাশ নয়, মূল সর্বনাশ হবে যদি আমরা আসনটি ধরে রাখতে না পারি। যেকোন ত্যাগের বিনিময়ে সকল ষড়যন্ত্র, শক্রুতা ভুলে গিয়ে আসুন আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়ী করার চেষ্টা করি। যদি জয়ী করতে না পারি, তাহলে আবারো রাজাকার, আলবদর, আলসামসরা ক্ষমতায় আসবো। তখন আবারো দুঃশাসন শুরু হবে। এটা যেনো আর না হয়। নৌকার পক্ষে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে”।

নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমার চাইতে যাকে এ আসনে নৌকা মার্কা দিয়েছেন আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা তিনি অবশ্যই জনপ্রিয় । তাকে (ডা. মনসুর) কে আমরা আগামী ৩০ ডিসেম্বর বিজয়ী করবো ইনশাল্লাহ”।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নির্বাচনে দারা এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বিন্দ্বতায় তিনি আবারও সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তার স্থলে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বিএমএ ও স্বাচিপ নেতা এবং রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মনসুর রহমানকে।