• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১০ রাত

ড. কামাল : আমার কথায় আঘাত পেয়ে থাকলে আমি অনুতপ্ত

  • প্রকাশিত ১১:২৯ সকাল ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮
ফাইল ছবি
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। ফাইল ছবি

লিখিত বিবৃতিতে প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, ‘আমার সারা জীবনে আমি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছি। আমি আশা করি আমরা একসঙ্গে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ এবং সহনশীল করার স্বপ্ন সত্যি করতে পারবো।’  

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, তার কথা কাউকে আঘাত করলে তিনি দুঃখিত। 

শুক্রবার পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক বলেন, এইদিনে আমার অনেক বন্ধু শহীদ হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই আমি আবেগতাড়িত ছিলাম, একারণেই সাংবাদিকদের থামতে বলছিলাম।  

ড. কামাল বলেন, ‘অন্য বছরগুলোর মতো এ বছরও আমি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিরপুর স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলাম। ১৯৭১ সালের এই দিনে আমাদের জাতীয় সর্বোচ্চ মেধাবীদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। যারা  এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য বঙ্গবন্ধু আমাকে আইন নিয়ে কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন। দিনটিতে একটি আলাদা আবেগ কাজ করে। আমি বিশ্বাস করি সর্বস্তরের মানুষ স্মৃতিসৌধে যায় শুধু শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।’ 

গতকালের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ড. কামাল বলেন, “১৪ ডিসেম্বর, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিসৌধ ত্যাগের সময়, অনেক জীবনের বিনিময়ে আমরা কীভাবে স্বাধীনতা পেয়েছি সে বিষয়ে সংক্ষেপে কথা বলি। এরপর হঠাৎ আমাকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও জামায়াত নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। আমি তখনই বলি, দিনটি অনেক আবেগের, আমি এই স্থানে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমাকে আবার একই প্রশ্ন করা হলে একইভাবে উত্তর দেই। কিন্তু হট্টগোল ও ভীড়ের মাঝে আমাকে যখন তৃতীয়বার প্রশ্নটি করা হলো, ‘জামায়াত’ শব্দটির পুনরাবৃত্তি হচ্ছিলো, আমি খুবই বিরক্ত হই এবং ওই ব্যক্তিকে কথা বন্ধ করতে বলি। যদি আমার কথা আঘাত করে, তাহলে আমি খুবই দুঃখিত।” 

লিখিত বিবৃতিতে প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, ‘আমার সারা জীবনে আমি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছি। আমি আশা করি আমরা একসঙ্গে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ এবং সহনশীল করার স্বপ্ন সত্যি করতে পারবো।’  

এর আগে শুক্রবার সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া শেষে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গে ড. কামালের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করলে সাংবাদিকদের ওপর চটে গিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কত পয়সা পেয়েছো এসব প্রশ্ন করতে? চিনে রাখবো। কত পয়সা দিয়েছে? চুপ করো, খামোশ।’


আরও পড়ুন- ড. কামাল: স্মৃতিস্তম্ভের কাছে হামলা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি অপমান

আরও পড়ুন- ড. কামাল বললেন, চুপ করো, খামোশ

আরও পড়ুন- শেখ হাসিনা: খামোশ বললেই মুখ বন্ধ হবে না

আরও পড়ুন- হেলালুদ্দীন: ড. কামালের গাড়িবহরে হামলা সম্পর্কে ইসি অবগত নয়

আরও পড়ুন- সাংবাদিকদের ‘হুমকি’ দেয়ার অভিযোগে ড. কামালের বিরুদ্ধে জিডি