• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১৪ সন্ধ্যা

বেকার ভাতা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা

  • প্রকাশিত ০৪:১১ বিকেল ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮
ঐক্যফ্রন্ট
ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের ফাইল ছবি। ছবি: মাহমুদ হোসাইন অপু/ ঢাকা ট্রিবিউন।

মোট ৩৫টি অঙ্গীকার রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। 

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টার পর রাজধানীর হোটেল পূর্বানীতে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না।

হোটেল পূর্বানীতে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় উপস্থিত আছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রধান  ড.কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কাজী জাফরুল্লাহ, কাদের সিদ্দিকী প্রমূখ।

মোট ৩৫টি অঙ্গীকার রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে। এর মধ্যে সংক্ষিপ্ত আকারে ১৪টি মূল প্রতিশ্রুতি পাঠ করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না।

ইশতেহারে বলা হয়,প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখা, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, সরকারি চাকরির বয়সের সময়সীমা না রাখাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে ঐক্যফ্রন্ট। এসব অঙ্গীকার পাঁচ বছরের মধ্যে পূরণ করা হবে বলে ইশতেহারে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারের ৩৫ দফায় যা আছে

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে ঐক্যফ্রন্ট।

প্রাদেশিক সরকার: প্রাদেশিক সরকার প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা পরীক্ষার জন্য একটি সর্বদলীয় জাতীয় কমিশন গঠন করা হবে।

সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়: ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানবিক মর্যাদা, অধিকার, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করবে। তাদের ওপর যে কোনো হামলার বিচার হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে।

সরকারি চাকরির বয়সসীমা: পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ছাড়া সরকারি চাকরিতে বয়সের কোনো সময়সীমা রাখবে না ঐক্যফ্রন্ট। অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী ছাড়া সরকারি চাকুরিতে আর কারও জন্য কোটা থাকবে না।

বেকার ভাতা চালু: ৩০ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষিত বেকারদের জন্য ভাতা চালু করতে একটি কমিশন গঠন করা হবে ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে।

এছাড়া ৩৫ দফার মধ্যে আরও যে প্রতিশ্রুতিগুলো রয়েছে

‘সত্যানুসন্ধান ও বিভেদ নিরসন’ কমিশন: ‘মিথ্যা’ মামলা, গুম, খুন, ঘুষ বাণিজ্য ও বিচারবর্হিভূত হত্যার সমাধানে ‘সর্বদলীয় সত্যানুসন্ধান ও বিভেদ নিরসন কমিশন’ গঠন করা হবে। ‘খোলা মনে’ আলোচনা করে ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সেখানে ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের’ অতীতের হয়রানিমূলক মামলার সুরাহা করা হবে।

নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা: বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম বন্ধ করবে ঐক্যফ্রন্ট। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করবে। রিমান্ডের নামে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন, সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার বন্ধ করবে, ‘মিথ্যা’ মামলায় অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ দেবে। মিথ্যা মামলায় ‘সহায়তাকারী’ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে জিরো টোলারেন্স দেখাবে, যৌতুক পুরোপুরি বন্ধ করবে।

ক্ষমতার ভারসাম্য: সংসদে একটি উচ্চ কক্ষ সৃষ্টি করা হবে। সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে (ফ্লোর ক্রসিং) পরিবর্তন আনবে ঐক্যফ্রন্ট।

প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ‘ভারসাম্য’ আনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে। পর পর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকার সুযোগ তারা বন্ধ করবে। সংসদের ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত করার সুযোগ তৈরি করবে।

বিচারপতি নিয়োগ কমিশন: বিচারপতিসহ সব নিয়োগের ক্ষেত্রে বিরোধী দলীয় সাংসদ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে স্বাধীন কমিশন গঠন করবে ঐক্যফ্রন্ট। সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে ‘উল্লেখযোগ্য’ সংখ্যক নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে।

পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল: পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করবে ঐক্যফ্রন্ট। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে। মোবাইল ইন্টারনেটের খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা হবে। দেশের বিভিন্ন গণজমায়েতের স্থানে ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই এর ব্যবস্থা করবে। এছাড়া প্রথম বছর থেকেই ডাকসুসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা হবে। 

সংসদে প্রত্যক্ষ ভোটে নারী: সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করতে চায় ঐক্যফ্রন্ট। তার বদলে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের জন্য ন্যূনতম বিশ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হবে।

দুর্নীতির তদন্ত: বর্তমান সরকারের সময়ে দুর্নীতির তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে। ন্যায়পাল নিয়োগ করা হবে এবং সংবিধান নির্দেশিত সব দায়িত্ব পালনে ন্যায়পালকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হবে।

আর্থিক খাতে দুর্নীতির তদন্ত: আর্থিক খাতে ‘লুটপাটে’ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে ঐক্যফ্রন্ট। ব্যাংকগুলোকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ‘সর্বময় ক্ষমতা’ দেবে তারা।

ইশতেহার ঘোষণার পূর্বে সাংবাদিকদের সঙ্গে সর্বশেষ নির্বাচনী অবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন।