• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২১ দুপুর

ড.কামাল: জামায়াত ভবিষ্যতে সরকারের অংশ হলে একদিনও ঐক্যফ্রন্টে থাকবো না

  • প্রকাশিত ০৭:০৯ রাত ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮
ড. কামাল হোসেন
গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। ফাইল ছবি। মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তাহলে তা হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার দিন

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতীকে জামায়াত নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া বোকামি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন। বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এই মত ব্যক্ত করেন তিনি।

ড. কামাল বলেন, "বিএনপির প্রতীকে জামায়াত নেতাদের মনোনয়ন দেওয়াটা বোকামি হয়েছে। জামায়াত নেতারা প্রার্থী হবে জানলে ঐক্যফ্রন্টের দায়িত্ব নিতাম না"।

ঘন্টাব্যাপী এই সাক্ষাৎকারে নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আগে জানলে আমি ঐক্যফ্রন্টের সাথে যুক্ত হতাম না। তবে, ভবিষ্যতে জামায়াত নেতারা সরকারের অংশ হলে আমি একদিনের জন্যও ঐক্যফ্রন্টের সাথে থাকবো না"।

ভারতের সঙ্গে বিএনপি'র দুর্বল সম্পর্ক নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট প্রধান বলেন, "ভারতকে বিএনপি বলেছে, তারা ভুল করেছে। খালেদা জিয়া যখন ভারত গেলেন, তখন তিনি তাদের এটা বলেছেন। এটা তাদের ভুল উপলব্ধির প্রক্রিয়ার অংশ, খালেদা জিয়া এবং বিএনপি নিজেদের অবস্থান সংশোধন শুরু করেছেন"।

এসময় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পরিবারকেন্দ্রিক রাজনৈতিক চর্চার সমালোচনা করে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা বলেন, "কীভাবে একটি বিশেষ পরিবার আমাদের দেশ শাসন করবে?"

"বর্তমানে আমাদের দেশে গণতন্ত্র চরম অবহেলিত। গণতন্ত্র ছাড়া স্বাধীনতা তাৎপর্যহীন", যোগ করেন তিনি।  

এবারের নির্বাচনকে স্বাধীনতার সাথে তুলনা করে ড. কামাল বলেন, "আমি ভোটের দিনের অপেক্ষায় আছি। ভোটের দিন আরেকটি স্বাধীনতার দিন। যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তাহলে তা  হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার দিন। এখন, গণতন্ত্র বিপদগ্রস্ত। যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে স্বাধীনতা অর্থপূর্ণ হবে"। 

তবে, একটি অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এই সময় তিনি প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "পুলিশের দিকে দেখুন, তারা কী করছে? তারা এখন সরকারদলীয় লাঠিয়ালে পরিণত হয়েছে"।

ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী হবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন জানান, "আমি, হ্যাঁ বা না বলবো না।  তবে,  গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়  যেকোন পদে বেতন ছাড়াই কাজ করতে  আমার আপত্তি নেই"।