• বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

মির্জা ফখরুল : বিএনপি ইসলামী আইনে বিশ্বাস করে না

  • প্রকাশিত ০৫:৩২ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ২৯, ২০১৮
মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ 'ভয়াবহ' বলে উল্লেখ করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, 'সেখানে (বাংলাদেশ) কোনো নির্বাচনী প্রচারণা নেই। এটা একটি সন্ত্রাসের রাজ্য, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের রাজ্য।' এ সময় তার পরিবারের সদস্যদের ওপরও নির্বাচনী সহিংসতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন 'বিএনপি ইসলামী আইনে বিশ্বাস করে না।' ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সেখানে ভারতের সংশ্লিষ্টতা, জামায়াত ইসলামী এবং রাজনীতিতে বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে কথা বলার সময় এমন মন্তব্য করেন তিনি। 

ধানের শীষ প্রতীকে জোটগতভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। অষ্টম ও নবম সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করে দলটি। এর আগে চারদলীয় জোটের ব্যানারে দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক সখ্যতা থাকলেও বিএনপি জামায়াতের মতো নয় বলে উল্লেখ করেছেন মির্জা ফখরুল। 

দলের নিবন্ধন হারানোয় এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি জামায়াত। তবে ঐক্যফন্টের ছায়ায় ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের ২৫ নেতা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, সাক্ষাৎকারে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেছেন মির্জা ফখরুল। 

জামায়াত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সংবাদমাধ্যমটিকে মির্জা ফখরুল বলেন, 'যখন আমাদের জামায়াতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, আমি আপনাদের বলছি, দেখেন-বিএনপি জামায়াত নয়। বিএনপি ইসলামী আইনে বিশ্বাস করে না। এটা মৌলবাদে বিশ্বাস করে না।  জামায়াতের প্রতি আমাদের কোনো মোহ নেই।'  

বিএনপির মহাসচিব বলেন, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক কৌশলগত। আর আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে সেখানে জামায়াত থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এর কোনো সম্ভাবনা নেই।'

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে ফখরুল জানান, চলতি বছরের আগস্টে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবের সঙ্গে ব্যাংককে একটি বৈঠকের চেষ্টা করেছিল বিএনপি। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের বাইরে ভারতের নেতাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছিলাম। ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ চেয়েছিলাম। তিনবার দেখা করেছি। ভারতীয় কূটনীতিকেরা সাক্ষাৎ করতে তেমন আগ্রহী নন বলে মনে হয়েছে। সম্ভবত তারা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে দেখা করে শেখ হাসিনার সরকারের বিরাগভাজন হতে চাননি।’

সাক্ষাৎকারে ফখরুল বলেন, ‘২০০১-০৬ শাসনামলে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ভারতের চরম সমালোচক ছিল, যা দিল্লি মনে রেখেছে। তবে ভারতের বর্তমান সরকার ডানপন্থী হলেও তাদের সঙ্গে কাজ করতে আপত্তি নেই বিএনপির। বিজেপি ডানপন্থী রাজনৈতিক দল। আরএসএস-ও তাই। কিন্তু তাদের সঙ্গে কাজ করতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। দুর্ভাগ্যবশত আমি জানি না কেন ভারত আওয়ামী লীগ সরকারের অপকর্ম এড়িয়ে যায়। যে অপকর্মে রয়েছে নির্যাতন, গুম ইত্যাদি।' 

'সাধারণ মানুষ ভারতকে দোষ দিচ্ছে। মানুষ মনে করে ভারত আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করছে। আওয়ামী লীগ দেশে ঘৃণিত রাজনৈতিক দল। কিন্তু শুধু ভারতের কারণেই তারা টিকে আছে, ভারতই আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করেছে।’ 

বিএনপির ভারতবিরোধী ইমেজ সম্পর্কে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। আমরা সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদে বিশ্বাস করি না। এ বিষয়ে আমাদের নিয়ে ভারতের ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি। এটা পুরোপুরি মিথ্যা ধারণা যে-আমরা ভারতবিরোধী। এটা আওয়ামী লীগের অপপ্রচারের অংশ।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ 'ভয়াবহ' বলে উল্লেখ করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, 'সেখানে (বাংলাদেশ) কোনো নির্বাচনী প্রচারণা নেই। এটা একটি সন্ত্রাসের রাজ্য, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের রাজ্য।' এ সময় তার পরিবারের সদস্যদের ওপরও নির্বাচনী সহিংসতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।