• শনিবার, জুলাই ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫২ সকাল

ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ৪৭ নেতা-কর্মী কারাগারে

  • প্রকাশিত ০৪:৩৫ বিকেল এপ্রিল ৭, ২০১৯
জয়পুরহাট

আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের জেল-হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন

জয়পুরহাটের কালাইয়ে উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের দুই কর্মী নিহতের মামলায় আদালত ২ জন ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ৪৭ নেতা-কর্মীকে জেল-হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার দুপুরে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জামিন নিতে এলে জামিন না মঞ্জুর করে আদালতের বিচারক ইকবাল বাহার তাদের জেল-হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মার্চ উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় কালাই উপজেলা আওয়ামী লীগের দু'পক্ষের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ মনোনীত নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর গ্রুপের দুই কর্মী আফতাব ও রতন কুমার নিহত হন। এ ঘটনায় আফতাবের ছেলে বাদি হয়ে দু'জন ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের অপর গ্রুপের ৪৭ নেতা-কর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার দায়ের করার পর থেকেই পলাতক ছিলেন আসামিরা। গত রবিবার তারা আদালতে আত্মসর্মপণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে তাদের জেল-হাজাতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মার্চ প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিনফুজুর রহমান মিলন। তবে, নির্বাচনের আগে থেকেই তার বিরোধিতা শুরু করেন আওয়ামী লীগ নেতা এবং মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হাবিব লজিক ও উদয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী।

দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর এই বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। নির্বাচনে ওই ইউপি চেয়ারম্যানদ্বয়ের নেতৃত্বে তাদের নেতা-কর্মীরা নিজ দলীয় প্রার্থীর পরিবর্তে জাসদের উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালান। এমনকি নির্বাচনের দিনও তারা দলবল নিয়ে জাসদের মশাল মার্কার প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোট আদায়ের চেষ্টা করেন। যার জের ধরে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মোসলিমগঞ্জ বাজারে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ১১৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে প্রাথমিকভাবে তাদের এই সংঘর্ষ থামানো হলেও ১৬ মার্চ রাত ৮টার দিকে ওই অঞ্চলের হাট পুকুর এলাকায় উদয়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলীর সমর্থকদের সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমানের সমর্থকদের আবারো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে উপজেলা চেয়ারম্যানের দুই সমর্থক আফতাব ও রতন মোহন্ত নিহত ও ১০জন আহত হন। এ ঘটনায় নিহত কর্মী আফতাব হোসেনের ছেলে গোলাম রব্বানী বাদি হয়ে এজাহারভুক্ত ৪৭ জন সহ অজ্ঞাত দেড়'শ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।