• বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০০ রাত

আবারও অবস্থান কর্মসূচি, রাজু ভাস্কর্যে ঈদ করার ঘোষণা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের

  • প্রকাশিত ০১:৪৭ দুপুর মে ২৭, ২০১৯
ছাত্রলীগ
কমিটি ঘোষণার পর রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন (ফাইল ছবি)

আমরা এখানে অবস্থান করব, ঈদ আমরা ঢাকায় করার প্রস্তুতি নিয়েছি। যদি আমাদের এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান না দেওয়া হয় তাহলে আমরা রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান করব। ঈদের দিন আমরা রাজু ভাস্কর্যে থাকব।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বিতর্কিত নেতাদের বাদ নিয়ে ত্যাগী নেতাদের অর্ন্তভুক্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আবারও অবস্থান নিয়েছেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা। এমনকি এ দাবি মানা না হলে রাজু ভাস্কর্যেই ঈদ করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

২৭ মে, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পদবঞ্চিত নেতারা এ ঘোষণা দেন। এর আগে ২৬ মে, রবিবার রাত থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বিতর্কিতদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়া কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেন নেতাকর্মীরা।

দাবি আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে ছাত্রলীগের বিগত কমিটির উপ দপ্তর সম্পাদক শেখ নকিবুল ইসলাম সুমন বলেন, “আমরা এখানে অবস্থান করব, ঈদ আমরা ঢাকায় করার প্রস্তুতি নিয়েছি। যদি আমাদের এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান না দেওয়া হয় তাহলে আমরা রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান করব। ঈদের দিন আমরা রাজু ভাস্কর্যে থাকব।”

লিখিত বক্তব্যে সুমন আরও বলেন, “গত ১৯ মে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা আমাদের ডেকে পাঠান। আমরা তাদের সঙ্গে দেখা করে ঘটনা বিষয়ে বিস্তারিত জানাই ও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ কামনা করি। আমরা কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে তদন্তের মাধ্যমে ত্যাগীদের মূল্যায়ন ও হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানাই। তখন আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করি। কিন্তু আমরা দেখেছি, হামলার ঘটনায় উল্টো যারা ভুক্তভোগী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের বাদ দেওয়া হয়নি। উল্টো তাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মুজিব আদর্শের সৈনিকদের কাছে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।”

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে, সোমবার ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে বিবাহিত, মাদকাসক্ত, অছাত্র, জামাত, শিবিরের অবস্থান আছে অভিযোগ ছাত্রলীগের একটি অংশ এ প্রত্যাখান করে এবং অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণার আহ্বান জানায় পদবঞ্চিতরা। ঘটনায় ডাকসুতে উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই আন্দোলনে নামে পদবঞ্চিতরা। পরে গত ১৯ মে আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু তাদের দাবি মেনে না নিয়ে বিতর্কিতদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর ঘোষণা দেওয়ায় রবিবার রাত থেকে আবারও আন্দোলনে বসেছেন তারা।