• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৩ বিকেল

সরকারি চাকরি করেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি!

  • প্রকাশিত ০১:৫৭ দুপুর জুন ১২, ২০১৯
হাবিবুল্লাহ সরকার
সরকারি চাকরি করেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাবিবুল্লাহ সরকার। reuters

সরকারি চাকরিজীবী হয়ে রাজনৈতিক দলের পদে থাকতে পারেন কি না, এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ওই আওয়ামী লীগ নেতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চর-ইসলামপুর ইউনিয়নের জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাবিবুল্লাহ সরকার। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি চাকরি করে কেউ দলীয় রাজনীতি করতে না পারলেও তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি চর-ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজয়নগর উপজেলার একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন সরকারি চাকুরী করেও কীভাবে হাবিবুল্লাহ সরকার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে আছেন বিষয়টি বোধগম্য নয়। সরকারি বিধিমালায় বলা আছে, সরকারি চাকুরী করে কেউ দলীয় রাজনীতি করতে পারবেন না। বিজয়নগর উপজেলা পরিষদেন নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্প্রতি চর-ইসলামপুর গ্রামের রাস্তায় বেশ কয়েকটি তোরন নির্মাণ করেছেন ওই শিক্ষক ও আওয়ামীলীগ নেতা। সেখানে নিজের পদ উল্লেখ করে ছবি সম্বলিত ডিজিটাল ব্যানার টানিয়েছেন তিনি বলেও জানান তারা।

এ প্রসঙ্গে হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, “আসলে রাজনীতি এমনিতেই করি। নির্বাচনের আগে লোকজন আমাকে এই পদে রাখার দাবি তোলে।” সরকারি চাকরিজীবী হয়ে রাজনৈতিক দলের পদে থাকতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

চর-ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দানা মিয়া বলেন, “গ্রামের লোক বলে তাকে আমরা কমিটিতে রেখেছি। তিনি থাকতে রাজি ছিলেন না।”

সম্প্রতি চর-ইসলামপুর গ্রামের রাস্তায় বেশ কয়েকটি তোরন নির্মাণ করেছেন ওই শিক্ষক ও আওয়ামী লীগ নেতা। সেখানে নিজের পদ উল্লেখ করে ছবি সম্বলিত ডিজিটাল ব্যানার টানিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বণিক বলেন, “সরকারি কোনো কর্মকর্তা রাজনৈতিক দলের কোনও পদে থাকতে পারবেন না। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, “আসলে রাজনীতি এমনিতেই করি। নির্বাচনের আগে লোকজন আমাকে এই পদে রাখার দাবি তোলে।”

বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনও শিক্ষক রাজনৈতিক কোনও পদে থাকতে পারেন না। আর চর-ইলামপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।”

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বণিক বলেন, “সরকারি কোনও কর্মকর্তা রাজনৈতিক দলের কোনও পদে থাকতে পারবেন না। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”