• মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৩ দুপুর

যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাক্ষী: দলীয় সহকর্মীকে আওয়ামী লীগ নেতার হুমকি

  • প্রকাশিত ০৬:২৩ সন্ধ্যা জুলাই ২২, ২০১৯
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল
ফাইল ছবি

এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে

বগুড়ার আদমদীঘিতে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মোমিন তালুকদার খোকার বিরুদ্ধে সাক্ষী না দিতে সান্তাহার পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক গোলাম হোসেনকে (৭১) হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই ইউনিটের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য জাহিদুল বারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গোলাম হোসেন আদমদীঘি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

রবিবার (২১ জুলাই) করা জিডিতে গোলাম হোসেন উল্লেখ করেন, বগুড়া-৩ আসনে সাবেক বিএনপি সংসদ সদস্য আবদুল মোমিন তালুকদার খোকা যুদ্ধাপরাধ মামলার অন্যতম আসামি। যার (আইসিটি-বিডি, মামলা নং-০৯, ২০১৮) তিনি অন্যতম সাক্ষী। গত ৬ জুলাই সন্ধ্যা সোয়া ৭ টায় সান্তাহার পৌর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল বারী তাকে বলেন, ওই মামলায় সাক্ষী দিয়ে কী হবে? তোমার জীবনের ভয় নেই? বিএনপি ক্ষমতায় এলে খোকা তোমাকে মেরে ফেলবে। তার চেয়ে টাকা দিচ্ছি সারাজীবন বসে খেতে পারবে। এছাড়া আরেকজন সাক্ষী আবুল কালাম সরদারকেও সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য বলেছেন তিনি। তাকেও (কালাম) দেখে নেওয়ারর হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জানান তিনি। তবে এ হুমকি সত্ত্বেও তারা গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দিয়ে আসেন।

১৪ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জাহিদুল বারী গোলাম হোসেনকে ডেকে আবারও হুমকি দেন। তিনি বলেন, তোকে দেখে নেব; কেমন করে আওয়ামী লীগ করিস। মনে রাখিস জীবন বাঁচাতে পারবি না। এ হুমকিতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তিনি বিষয়টি যুদ্ধাপরাধ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিনিয়র এএসপি জেডএম আলতাফুর রহমান এবং সরকার পক্ষের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ সীমনকে জানান। 

তাদের পরামর্শে ২১ জুলাই আদমদীঘি থানায় জাহিদুল বারীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন।

আদমদীঘি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক জানান, জিডি পাওয়ার পর তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদুল বারী জানান, তিনি আগামীতে আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সান্তাহার পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাই আওয়ামী লীগের একটি অংশ হিংসার বশবর্তী হয়ে পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক গোলাম হোসেনকে দিয়ে এসব মিথ্যাচার করছেন। হুমকির অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করে বলেন, তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই ষড়যন্ত্র চলছে।