• রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩০ সকাল

ছাত্রলীগ কমিটি 'ভাঙা' নিয়ে ধূম্রজাল!

  • প্রকাশিত ০৫:২৩ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯
ছাত্রলীগ
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন (বাঁয়ে) ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অযোগ্যতার কারণে এই কমিটি ভেঙে দিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর আসে 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি ভাঙা না-ভাঙা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল। গত দু’দিনে মিডিয়াতে ছাত্রলীগের কমিটি ভাঙা-বিষয়ক বিভিন্ন খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। 

ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে জল্পনার সূত্রপাত হয় মূলত শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর), যেদিন দলের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বেশকয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর আসে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সেসব খবরে বলা হয়,  ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অযোগ্যতার কারণে এই কমিটি ভেঙে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্দিষ্ট আরও নাম উল্লেখ না করে একাধিকসূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, রংপুর-৩ এর উপনির্বাচন এবং কয়েকটি উপজেলার প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে আয়োজিত বৈঠকটিতে ছাত্রলীগের প্রসঙ্গ তোলেন স্বয়ং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও জানা যায়, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। বিশেষ করে তারা দুপুরের আগে ঘুম থেকে ওঠে না।” 

এসময় মনোনয়ন বোর্ডের অন্যান্য সদস্যও আলোচনায় অংশ নেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনে গিয়ে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের অপেক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করা, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর পর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুষ্ঠানে যাওয়া এবং সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদকে প্রধান অতিথি করে আয়োজন করা ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে একই ধরনের অপর একটি ঘটনার উদাহরণ ওইসভায় উঠে আসে।

এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজের সম্মেলনের দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও কমিটি দিতে না পারা, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি করার বিষয়ে অনৈতিক অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ আসা, কেন্দ্রীয় কমিটিতে অনেক বিতর্কিত, বিবাহিত ও জামায়াত-বিএনপি সংশ্লিষ্টদের পদায়ন করার বিষয়েও সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদমাধ্যমগুলোতে আরো উল্লেখ করা হয়, অন্তত ১০ মিনিট ধরে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সভায় আলোচনা হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কমিটিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

শনিবার এসকল বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশিত হওয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ জানার পারার পর থেকেই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। ভবিষ্যৎ কমিটি নিয়ে দিনভর চলে নানান জল্পনা-কল্পনাও। তবে, পরিস্থিতি বদলে যায় রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর), যখন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, ছাত্রলীগ কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত আসেনি। তিনি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত না আসছে, ততক্ষণ উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন তা বলবো না, উনি বলেননি তাও বলবো না।”

ওবায়দুল কাদের বলেন, “শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড ও সংসদীয় বোর্ডের যৌথসভা হয়েছে। সেখানে অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রাগ, ক্ষোভ, অসন্তুষ্টির বিষয়ও এসেছে। তবে ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে গতকাল কোনও মিটিং হয়নি।”

সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিতে বলেছেন কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এসব কথাবলেন। 

ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, “প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখে এমন কর্মকাণ্ডে আমি সবসময়ই সন্তুষ্টি প্রকাশ করি। তবে যেসব কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ কষ্ট পায়, সেবিষয়ে আমি সন্তুষ্ট হতে পারি না। আমি তখন তাদের ভালো কাজের শিরোনাম হতে বলি, তাদের সংশোধন হতে বলি।”

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে সম্মেলনের এক বছরের মাথায় ৩০১ সদস্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর সংগঠনটির ভেতর থেকেই নানা সমালোচনা চলছিল। এর আগে ২০১৮ সালের ১২ ও ১৩ মে সম্মেলনে কমিটি করতে ব্যর্থ হয় ছাত্রলীগ। পরে একইবছরের ৩১ জুলাই সম্মেলনের দুই মাস পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্বিদ্যালয়ের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম আওয়ামী লীগ সভাপতি চূড়ান্ত করার পর তার ঘোষণা দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।