• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৩ রাত

মির্জা ফখরুল: ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত নেবে ছাত্রদলই

  • প্রকাশিত ০৮:২৯ রাত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯
ফখরুল
রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

‘ছাত্রদলের কাউন্সিলে যে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, তাতে বোঝা যায় এখানে সরকারের হস্তক্ষেপ আছে। আছে বলেই এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।’

ছাত্রদলের কাউন্সিল আয়োজনে আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিএনপি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “ছাত্রদলের কাউন্সিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তারা নিজেরাই।”

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন, বিকাল ৫টার দিকে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষ হয় সন্ধ্যা সাতটার পর। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিষয়টি নিয়ে তাদের (ছাত্রদল) আলোচনা চলছে। তারা সিদ্ধান্ত নেবে। এটি তাদের ব্যাপার। বিএনপি এর সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। তারা আদালতের মুখোমুখি হবে।”

কাউন্সিল বিষয়ে আদালতের শোকজ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “আমাদের (কাউন্সিল স্থগিতের মামলায়) পক্ষ করা হয়েছে, আমরা যথাসময়ে এর উত্তর দেবো। সে হিসেবে আমরা ব্যবস্থা নেবো।”

এক্ষেত্রে কাউন্সিলের কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, “এটি ছাত্রদলই বলবে। আমি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে বলছি না। তারা বলবে, যারা ছাত্রদলের দায়িত্বে আছেন, তারা সেটি আজও বলতে পারেন।”

পরে এবিষয়ে ছাত্রদলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এখনও দলের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে দৃশ্যত এখন বিএনপির পক্ষ থেকে নির্দেশনা নাও দেওয়া হতে পারে।

ছাত্রদলের একটি সূত্র বলছে, ছাত্রদলের অবস্থা নিয়ে বিএনপির দৃশ্যমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের কারণে এখন সংগঠনের সর্বশেষ কমিটির নেতারা বৈঠক করতে পারেন। এই বৈঠকের পরই জানা যাবে সংগঠনটির পরবর্তী পরিকল্পনা।

ছাত্রলীগের বর্তমান পরিস্থিতি ও ছাত্রদলের কাউন্সিলের মধ্যে কোনো যোগসাজশ আছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “অবশ্যই আছে। কারণ, একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ছাত্রদল পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। এটা বন্ধ করার জন্য স্টে করা হয়েছে। কাউন্সিল স্টে করার মানে কী? একটি পলিটিক্যাল পার্টির কার্যক্রমকে বন্ধ করে দিচ্ছে। এটি নজিরবিহীন।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে আদালতের হস্তক্ষেপ নজিরবিহীন। সরকারের হস্তক্ষেপে আদালত কাউন্সিলের ওপর স্থাগিতাদেশ দিয়েছেন।” তিনি অভিযোগ করেন, “ছাত্রদলের কাউন্সিলে যে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, তাতে বোঝা যায় এখানে সরকারের হস্তক্ষেপ আছে। আছে বলেই এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।”

সরকার আসলে কী চায়—এমন প্রশ্নে রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকুক, সেটা সরকার চায় না। দুঃখজনকভাবে তারা এজন্য আদালতকে ব্যবহার করছে। যেটা গণতন্ত্রিক একটা রাষ্ট্রের জন্য, রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য শুভ হতে পারে না। একটি দল আসবে, একটি যাবে, এটিই গণতান্ত্রিক নিয়ম।” তিনি বলেন, “এরমধ্যে কেউ যদি মনে করে তারা সারা জীবন ক্ষমতায় থাকবে, আর কোনো পরিবর্তন হবে না, তাহলে বুঝতে হবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। যারা একদলীয় সরকার চালায়, তাদেরও চলে যেতে হয়। ক্ষমতার পরিবর্তন হয়ই।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, “বর্তমান সরকার যে সংস্কৃতি তৈরি করছে, আদালতকে দিয়ে রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা—এটি ভয়াবহ বিষয়। দুঃখজনকভাবে আমরা লক্ষ করলাম, গত ১০ বছর ধরে তারা এই কাজটিই করলো।”

গুলশানের বৈঠকে লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপে যুক্ত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মহমুদ চৌধুরী।

দলীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, ছাত্রদলের কাউন্সিলের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক হয়। এবৈঠকে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।