• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫২ রাত

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন নিয়ে ছাত্রলীগের দু'পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪০

  • প্রকাশিত ০৬:৪৭ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯
সংঘর্ষ
মাদারীপুরে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন নিয়ে ছাত্রলীগের দু'পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ ৪০ জন আহত হয়েছেন। ঢাকা ট্রিবিউন

ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগের ৭ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ

মাদারীপুর সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন নিয়ে ছাত্রলীগের দু'পক্ষের সংঘর্ষে ৬ পুলিশ সদস্যসহ ৪০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টার দিকে কলেজচত্বরে এই ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে ১৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মাদারীপুর ছাত্রলীগের একাংশ সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ শাজাহান খানের সমর্থক এবং আরেক অংশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিমের সমর্থক। দীর্ঘদিন ধরেই এই দুপক্ষের মধ্যে কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।

শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দ র‍্যালি বের করে বাহাউদ্দিন নাছিমের অনুসারী ছাত্রলীগের কর্মীরা। একই সময় আনন্দ মিছিল বের করেন শাজাহান খানের অনুসারীরা। এই ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের দুপক্ষের নেতা-কর্মীরা। পরে দুইগ্রুপের লোকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় এবং সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ছাত্রলীগ কর্মীরা একাধিক বোমার বিষ্ফোরণ ঘটান এবং পরস্পরকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়েন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে ৬ পুলিশসহ ৪০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে ফরিদপুর মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

এদিকে এই ঘটনায় দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীরা একে অপরকে দোষারোপ করেছেন। জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ হাওলাদার বলেন, "নামধারী ছাত্রনেতা ও শ্রমিকরা কলেজ ক্যাম্পসে বিনাঅনুমতিতে প্রবেশ করে আমাদের নেতাকর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আমাদের কয়েকজন আহত হলে পরে সাধারণ ছাত্রসহ জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলাকারীদের প্রতিহত করে।"

পাল্টা অভিযোগ করে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর মাহামুদ বলেন, "ছাত্রলীগের সভাপতি অনিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদের নেতৃত্বে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা করে। হামলায় আমাদের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়।"

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, "আমরা দুই গ্রুপকে বলেছিলাম আলাদা রাস্তায় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করতে। তিনি তারা তা না করায় সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ৩/৪ টিয়ারশেল ও প্রায় ২০০ টি রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। এতে ৬ পুলিশ আহত হয়। কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ৭ কর্মীকে আটক করা হয়েছে।