• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে পূজামণ্ডপে ভাংচুর, আহত ১০

  • প্রকাশিত ০৫:০১ সন্ধ্যা অক্টোবর ১৭, ২০১৯
নারায়ণগঞ্জ

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে লক্ষ্মীপূজা মণ্ডপে ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জামপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পাকুণ্ডা গাবতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপের) সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু। তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। 

মণ্ডপে যাওয়ার পথে ডা. আবু জাফরের গাড়িবহরকে বাধা দেন জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, তার ছেলে রুবেল মিয়া, রোমান মিয়া, শ্যালক রিপন মিয়াসহ ২৫-৩০ জনের একটি দল। তাদের হামলায় আহত হন যুবলীগ নেতা মোখলেছুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হোসেন, নাফি মিয়া ও জাহিদ হোসেনসহ কমপক্ষে ১০ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। হামলা ও বাধার মুখে ডা. আবু জাফর চৌধুরী পূজামণ্ডপে না গিয়ে ফিরে আসেন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনার জেরে সন্ধ্যায় জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির ও তার সমর্থকরা লক্ষ্মীপূজার মণ্ডপে হামলা চালিয়ে ৬টি প্রতিমা ভাংচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

ঘটনার পর রাতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) মো. খোরশেদ আলম, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার, সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান, তালতলা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আহসান উল্লাহ্।

এ বিষয়ে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার জানান, পূজামণ্ডপে হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, প্রতিমা ভাংচুর ও সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় একটি অভিযোগও করা হয়েছে। তবে মণ্ডপে ভাংচুরের ঘটনায় মৌখিক অভিযোগ পেলেও এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এটি কোনো সাম্প্রদায়িক বিষয় নয়। স্থানীয় ও পূজামণ্ডপের দায়িত্বরতরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কোন্দল থেকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।এ বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপের) সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু জানান, গাবতলীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাওয়ার পথে আমার গাড়িবহরের ৩-৪টি গাড়িতে ভাঙচুর ও লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার মুখে মণ্ডপে না গিয়ে আমরা ফিরে আসি। পরবর্তীতে ওই মণ্ডপে ভাঙচুরের খবর পাই। 

তবে পাল্টা অভিযোগ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ডা. আবু জাফর চৌধুরীর লোকজনই তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারাই প্রতিমা ভাংচুর করে আমাদেরকে ফাঁসাতে চাইছে।