• সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৩ দুপুর

‘বিএনপির কর্মীরা সাহসী, নেতারা দুর্বল’

  • প্রকাশিত ০৮:২৩ রাত অক্টোবর ২৩, ২০১৯
হাফিজ
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

‘এতদিন ধরে আমরা বলছি, তিস্তার পানি চাই। কিন্তু এটা কোনও আলোচনার মধ্যেই এলো না। আর বলা হলো, আমরা ফেনী নদীর পানি দিয়ে এসেছি। কেন? বলা হলো, মানবতার ডাকে সাড়া দেবো না’

বিএনপির নেতাকর্মীদের আরও সাহসী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “বিএনপির কর্মীরা সাহসী, নেতারা দুর্বল। তাদের কেউ কেউ এত পয়সা বানিয়েছেন যে, রাজপথে রোদ লাগাতে ইচ্ছে করে না।”

বুধবার (২৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

‘দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল, আবরার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ভোলার ঘটনার দ্রুতবিচার ও খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি’তে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। খবর বাংলা ট্রিবিউনের। 

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ভারতের আর কী নেওয়ার আছে? সে বিষয়ে তাদের একটি কমিশন গঠন করা বাকি মাত্র। এখন তাদের কমিশন বসাতে হবে, বাংলাদেশ থেকে নেওয়ার মতো আর কী আছে? নদীর মাছ ও সাগরে মাছ তারা ধরে নিয়ে যায়। সুন্দরবন ছিল তা পুড়ে যাচ্ছে। তিতাস নদী বন্ধ করে তাদের গাড়ি-ঘোড়া চলবে। সবকিছুই তারা নিয়ে নিচ্ছে। এই সরকার ভারতের পদলেহী একটা সরকার। আমরা সাহসী সরকার চাই, মধ্যরাতের সরকার চাই না।”

বিএনপির নেতার্কমীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা মাঠে নামুন, ইনশাল্লাহ সরকার বিদায় হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলতে চাই, আপনি অনেক বড় মাপের এক নেতার কন্যা। কত সম্মান আপনার জন্য। দেশটাকে আর ধ্বংস করবেন না। আপনি দেশকে ভারতের কোনও করদরাজ্য হতে দেবেন না। আপনার বাবাও দেননি, আপনিও দেবেন না।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমি বলবো, আপনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করে পদত্যাগ করুন। জাতীয় সংসদ ভেঙে দিন।” সব দলকে ফেয়ার একটা নির্বাচনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “ভোলার ঘটনায় সরকারসহ সবাই বলছে এটি পূর্বপরিকল্পিত। আসলেই কি তাই? আসলেই তাই। তার প্রমাণ হচ্ছে, এ সবই ঘটে। আপনারা যখন প্রশ্ন করতে শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী ভারতে গেলেন, তখন কী পেলেন, কী দিয়ে এলেন, কোথায় কোথায় স্বাক্ষর করে আসলেন? এই আলোচনাটা যখন সামনে আসছিল ঠিক ওই মুহূর্তে আবরার খুন হলো। হঠাৎ তার পরে দেখা গেলো ভোলার ঘটনা। এই সবকিছুই 'র'-এর একটি স্ট্যান্ডার্ড প্রসিকিউট।”

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “এতদিন ধরে আমরা বলছি, তিস্তার পানি চাই। কিন্তু এটা কোনও আলোচনার মধ্যেই এলো না। আর বলা হলো, আমরা ফেনী নদীর পানি দিয়ে এসেছি। কেন? বলা হলো, মানবতার ডাকে সাড়া দেবো না। আপনার মধ্যে মানবতার এত বেশি চাষ হয়, সেটা কিন্তু আবরারের বেলায় হয়নি। কতগুলো মানুষ গুম করে হত্যা করেছে, তখন মানবতার কথা বলেননি। যখন নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য অন্যের পায়ের তেল দিতে হয়, সমস্ত জাতিকে অন্য একজনের কাছে নতজানু করতে হয়, তখন মানবতার কথা বলেন।”

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।