• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৮ দুপুর

রাঙ্গার সমালোচনায় ফিরোজ রশীদ: বান্দরকে লাই দিলে গাছের মাথায় ওঠে

  • প্রকাশিত ০৯:১১ রাত নভেম্বর ১২, ২০১৯
কাজী ফিরোজ রশীদ ও মশিউর রহমান রাঙ্গা
কাজী ফিরোজ রশীদ ও মশিউর রহমান রাঙ্গা। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য বলেন, আমরা ঘৃণাভরে এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার দেওয়া বক্তব্যকে "ব্যক্তিগত" বলে মন্তব্য করেছেন দলটির দুই সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও মুজিবুল হক চুন্নু। জাতীয় পার্টি তার এ বক্তব্যের দায় নেবে না বলেও জানান তারা।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও মুজিবুল হক চুন্নু একথা বলেন। এর আগে আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা রাঙ্গার ওই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে সংসদে তাকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন।

এ প্রসঙ্গে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, "বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের বক্তব্য দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তার বক্তব্য ভাইরাল হয়ে গেছে। তবে এই বক্তব্য জাতীয় পার্টির বক্তব্য নয়। এটা কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য হতে পারে না। এটা রাঙ্গার নিজস্ব বক্তব্য হতে পারে। ওই বক্তব্যের জন্য জাতীয় পার্টি লজ্জিত, আমরা দুঃখিত এবং আমরা এর জন্য অপমানিতবোধ করছি। আমরা মনে করি, এটা জাতীয় পার্টির বক্তব্য নয়, জাতীয় পার্টি এই বক্তব্য সমর্থন করে না। নূর হোসেন সম্পর্কে তিনি যেটা বলেছেন তা আমরা গ্রহণ করি না। আমাদের দল এটা গ্রহণ করে না। আমরা ঘৃণাভরে এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি।" 

তিনি আরও বলেন, "একটা কথা আছে, বান্দরকে লাই দিলে গাছের মাথায় ওঠে। এই লাই আমরা দেইনি। এই সংসদ তাকে লাই দিয়েছে। কী ধরনের ব্যক্তিত্ব; যার অতীত নেই-বর্তমান নেই। কিছুই ছিল না। হঠাৎ তাকে মন্ত্রী বানানো হলো। আমরা তো তাজ্জব হয়ে গেলাম।" 

রাঙ্গাকে উদ্দেশ করে ফিরোজ রশিদ আরও বলেন, "আমি যতদিন ধরে রাজনীতি করি, তার (রাঙ্গার) বয়সও ততদিন হবে না। তিনি কোথায় আন্দোলন করেছেন? কোথায় সংগ্রাম করেছেন? তিনি যুব দলের নেতা ছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে তিনি কথা বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কথা বলার ধৃষ্টতা তিনি কোথায় পেলেন? প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কে কথা বলেছেন। গণতন্ত্রের ছবক দেন। লেখাপড়া জানে না, আবার কাগজের মালা গলায় দিয়ে পরিবহন শ্রমিক হয়ে হঠাৎ বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়ে গেছেন। ধৃষ্টতা দেখান তিনি। আর তার জবাব দিতে হয় আমাদের। আসামিদের কাঠগড়ায় আমাদের দাঁড়াতে হয়। এটা সম্পূর্ণ আমাদের ঘাড়ে এসে পড়েছে। আমরা দুঃখিত।"

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, "আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান এখানে আছেন। বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে গতরাতে আমার কথা হয়েছে। মশিউর রহমান রাঙ্গা যে বক্তব্য দিয়েছেন, এই বক্তব্য জাতীয় পার্টি গ্রহণ করে না। এটা একান্তই ব্যক্তিগত। ওই বক্তব্য তিনি কেন দিয়েছেন, এই সংসদের সদস্য হিসেবে সংসদেই মসিউর রহমান রাঙ্গা তার ব্যাখ্যা দেবেন।"