• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীকে শিষ্টাচারহীন অভ্যর্থনা, সমালোচনার মুখে দিল্লি

  • প্রকাশিত ০২:৫৪ দুপুর নভেম্বর ২৪, ২০১৯
প্রধানমন্ত্রী
কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: এএফপি

প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশকেই বিভিন্ন সংকটে পাশে পেয়েছে দিল্লি

কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ভারত-বাংলাদেশ ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ উদ্বোধন করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে শুক্রবার (২২ নভেম্বর) দেশটির পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

তবে ভারতের খ্যাতনামা বাংলা পত্রিকা আনন্দবাজার জানায়, কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও মন্ত্রী, এমনকি সিনিয়র সচিবকেও পাঠানো হয়নি। যা বাঁধাধরা কূটনৈতিক প্রথা ও সৌজন্যবিরোধী। 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, দেশটির ঘরোয়া রাজনীতির বাধ্যবাধকতাই এর পেছনের কারণ।

একদিকে কট্টর হিন্দুবাদী বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার যখন ভারতজুড়ে নাগরিক তালিকা করে "বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের" দেশছাড়া করার কথা বলছেন, সেসময়ে পশ্চিমবঙ্গে নাগরিক তালিকা-বিরোধী মমতা ব্যানার্জিকে পাশে নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর বিষয়টিকে এড়িয়ে যেতেই চেয়েছেন মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। 

তবে, সিনিয়র কোনও সচিবকেও কেন কলকাতায় পাঠায়নি মোদী সরকার, তা নিয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সবমিলিয়ে দিল্লির এই আচরণে ভারতের অস্বস্তি যে আরও বেড়ে গেল, সে ব্যাপারে কূটনীতি বিশ্লেষকদের কোনও সন্দেহ নেই বলে জানাচ্ছে আনন্দবাজার।

এর আগে, অক্টোবরে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান যখন নয়াদিল্লিতে নামে, তখন তাকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন দেশটির নারী ও শিশুকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। 

আনন্দবাজার বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সেসময়কার সফরসঙ্গীরা ঘরোয়াভাবে জানিয়েছিলেন, এটা “যেচে অপমান নেওয়া”। কেননা, প্রতিবেশী ভারতের “পরম মিত্র” বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে বা কোনও সিনিয়র মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন এটাই ছিল প্রত্যাশা। প্রথমবার জিতে আসা কোনও প্রতিমন্ত্রী নন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুইদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে একাধিকবার উল্লেখ করেছেন মোদী। জঙ্গিবাদ নিয়ে ভারত যখন চাপের মধ্যে ছিলো, সেসময় শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারত-বিরোধী সন্ত্রাস উৎখাত করবেন। 

পরবর্তীতে তিনি সে প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালনও করেছেন বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করে আনন্দবাজার।

আনন্দবাজার আরও জানায়, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একমাত্র ঢাকাকেই বিভিন্ন সংকটে পাশে পেয়েছে দিল্লি। সম্প্রতি ভারতের অনুরোধে দেশের ভেতর দিয়ে আসাম-ত্রিপুরায় পণ্য পরিবহণের “ফি” একবারে টন প্রতি ১০৫৪ টাকা থেকে কমিয়ে ১৯২ টাকা করে ঢাকা। 

তাই এমন “পরম বন্ধু”র ভারত সফরে দিল্লির এই উদাসীনতা কেন, সে প্রশ্ন তুলেছে পত্রিকাটিও।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া না জানালেও দিল্লির এই উদাসীনতা দেশীয় রাজনীতিতে সরকারকে চাপে ফেলবে বলে মনে করছে আনন্দবাজার।

নাগরিক তালিকা নিয়ে অমিত শাহের বিভিন্ন সময়ের হুমকির কারণে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধিতা দিনদিন বাড়ছে বলে মনে করছে আনন্দবাজার। নতুন করে দিল্লির এই শিষ্টাচারহীন আচরণ তা আরও উস্কে দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। 

চীনপন্থী গোতাবায়া রাজাপক্ষ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হয়ে আসার পরে সেদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় পর্যটকদের জন্য অতিরিক্ত পর্যটন শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভুটান। অন্যদিকে চীনের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা ক্রমশ বাড়ায় নয়াদিল্লির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে নেপালের। 

এমন একটি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সফরকারী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লির এমন শীতল ব্যবহারে ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের অনেকেই বিস্মিত।