• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৫ দুপুর

শেখ হাসিনা: জাতির ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রলীগের সবসময় বিশেষ ভূমিকা ছিল

  • প্রকাশিত ০৭:৪৬ রাত জানুয়ারী ৪, ২০২০
শেখ হাসিনা
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমার বাবা যখন জেলে থাকতেন তখন ছাত্রলীগ যোগাযোগ রাখতো আমার মায়ের সঙ্গে এবং তিনিই সবসময় ছাত্রলীগকে নির্দেশনা দিতেন এবং সেই নির্দেশনা মোতাবেকই ছাত্রলীগ কাজ করতো'

নীতি ও আদর্শ নিয়ে চলার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের পাশপাশি ছাত্রলীগকে একটি মর্যাদাপূর্ণ সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, "দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা এর সকল নেতা-কর্মীকে মনে রাখতে হবে। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলা, ঐতিহাসিক ছয় দফা, ১১ দফা এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে সারাদেশে আন্দোলন গড়ে তোলা এবং সর্বোপরি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।"

শনিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, "ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে তাদের আচার-আচরণ, তাদের কথা-বার্তা, তাদের রাজনীতি-সবকিছু সেইভাবেই করা উচিত, যেন এই সংগঠনটা একটা মর্যাদাপূর্ণ হয় এবং দেশ ও জাতির কাছে যেন তারা একটা আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে চলতে পারে।"

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "জাতির যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রলীগ সবসময় বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছে। আমার বাবা যখন জেলে থাকতেন তখন ছাত্রলীগ যোগাযোগ রাখতো আমার মায়ের সঙ্গে এবং তিনিই সবসময় ছাত্রলীগকে নির্দেশনা দিতেন এবং সেই নির্দেশনা মোতাবেকই ছাত্রলীগ কাজ করতো।" 

তিনি বলেন, "সারা বাংলাদেশে একটি সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগের যে ঐতিহ্য, যে অবদান এটা প্রতিটা ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর মনে রাখা উচিত।"

প্রধানমন্ত্রী তার দেখা এদেশের রাজনীতির উদাহারণ টেনে বলেন, "আইয়ুব খান ‘মার্শাল ল’ দিয়ে ক্ষমতা দখল করে প্রেসিডেন্ট হলো। আগে ক্ষমতা দখল, তারপর দলগঠন এবং তারপরে ছাত্র সংগঠনের কিছু ছেলেদের হাতে অস্ত্র দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের একটা অবস্থান নেওয়ার অপচেষ্টা।"

"তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে ৭৫'এর জাতির পিতাকে হত্যার পর দেশে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের মধ্যদিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করে যখন জিয়াউর রহমান আসে, তখনও দেখি তার একই চরিত্র। ঠিক আইয়ুব খানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র ও অর্থ তুলে দিয়ে তাদের ব্যবহার করতেন একটা লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে। অবৈধভাবে দখলকরা ক্ষমতাকে বৈধ করার একটা হাতিয়ার হিসেবে।"

শেখ হাসিনা বলেন, "এভাবে বহু মেধাবী ছাত্রের জীবন তারা নষ্ট করেছে। যুদ্ধাপরাধী রাজাকার-আলবদরদের কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে তাদের রাজনীতি করার অধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সাত খুনের আসামিকেও রাজনীতি করতে দিয়েছে।" 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সংগঠনটির ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। 

ছাত্রলীগের সদ্য পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পাওয়া সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।