• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৬ রাত

সিইসি: সংসদ সদস্যরা প্রচারণায় অংশ নিতে পারবে না

  • প্রকাশিত ০৯:৫৮ সকাল জানুয়ারী ১২, ২০২০
সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা মেহেদী হাসান/ ঢাকা ট্রিবিউন

শনিবার (১১ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের একটি দল সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় এমপিদের অংশগ্রহণে যে আইনি বাধা রয়েছে তার বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে ইসি’তে যায়

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা (এমপি) নির্বাচনী প্রচারণা বা নির্বাচন সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন না।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, “কোনো এমপি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। তারা নির্বাচনী কার্যক্রমে জড়িত থাকতে পারবেন না। এমনকি তারা নির্বাচন সমন্বয়কারী হিসেবেও কাজ করতে পারবেন না।”

ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যথাক্রমে সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদকে প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দিয়েছে।

দুই এমপি দায়িত্ব পালন করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, “আমি মনে করি তারা পারেন না।” 

নুরুল হুদা বলেন, সমন্বয় কমিটিতে কারা আছেন সেবিষয়ে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই পায়নি। ঘরে বসে তিনি কীভাবে বলবেন যে তারা কী করছেন, যোগ করে সিইসি বলেন, “এমন কিছু যদি আমরা পাই তবে তাদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখবো।”

তিনি বলেন, “নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো কাজে তারা অংশ নিতে পারবেন না, সেটা ঘরোয়া হোক আর বাইরে হোক।”

একজন এমপি প্রার্থীর সাথে থাকতে পারবেন কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, “একজন সংসদ সদস্য সাথে থাকতে পারবেন, কিন্তু কিছু বলতে পারবেন না।”

এদিকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভোট চাওয়া ছাড়া এমপিরা সবকিছুই করতে পারবেন।

সিইসি ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সাথে বৈঠক শেষে তিনি এই কথা বলেন।

শনিবার আওয়ামী লীগের একটি দল সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় এমপিদের অংশগ্রহণে যে আইনি বাধা রয়েছে তার বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে ইসিতে যায়।

তোফায়েল বলেন, বৈঠকে আমরা নির্বাচনী বিধিগুলোর অসঙ্গতি উল্লেখ করেছি। মাহবুব তালুকদার ছাড়া সকল কমিশনার আমাদের বক্তব্যে একমত হয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমরা, এমপি’রা, রাস্তায় সমাবেশ ও ঘরে ঘরে প্রচারে অংশ নেবো না। তবে আমাদের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আমরা ঘরে বৈঠক করতে পারি।”

সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণবিধি) বিধিমালা ২০১৬ অনুযায়ী, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগকারী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। বিধিমালায় সংসদ সদস্যদেরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

তোফায়েল বলেন, বিএনপি’র গুরুত্বপূর্ণ নেতারা নির্বাচনী প্রচারে যোগ দিতে পারবেন কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা পারবেন না।

তিনি বলেন, বৈঠকে তারা বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, এমপিরা লাভজনক পদে না থাকায় তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন না।

তোফায়েল বলেন, সিটি নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হবে এবং তাদের দল এবিষয়ে সবধরনের সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, “ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আমরা এমন কিছু করবো না যাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”