• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩২ রাত

যুব মহিলা লীগ থেকে বাদ পড়ছেন নাজমা-অপু

  • প্রকাশিত ০৭:৩৪ রাত ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
নাজমা-অপু
যুব মহিলা লীগের সভাপতি আজমা আখতার (বামে) ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল (ডানে)। সংগৃহীত

সম্প্রতি তাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত শামীম নুর পাপিয়ার বিভিন্ন কেলেঙ্কারি প্রকাশ পাওয়ায় এই যুগলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে

দীর্ঘ দুই দশক ধরে আওয়ামী যুব মহিলা লীগে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল নাজমা আখতার ও অপু উকিলের। একদম শুরু থেকেই দলটির  নেতৃত্বে ছিলেন এই যুগল। তবে, তাদের আনুসারী ও যুব মহিলা লীগের সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নুর পাপিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের নেতৃত্বে থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতা ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, খুব শিগগিরই যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আখতার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলকে তাদের পদ থেকে অপসারণ করা হবে এবং জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বুধবার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "খুব শিগগিরই যুব মহিলা লীগের নতুন কমিটি গঠন করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।"

আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এই প্রতিবেদককে জানান, বহিষ্কৃত যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামীমা নুর পাপিয়ার বিভিন্ন কেলেঙ্কারির ব্যাপারে জানতে পেরে অত্যন্ত রুষ্ট হয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


আরও পড়ুন - পাপিয়ার বাড়ি থেকে ৫৮ লাখ টাকা, অস্ত্র উদ্ধার 


সূত্র জানায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এই ব্যাপারে আলোচনা হয়। সভায় যুব মহিলা লীগের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব নতুন কমিটি গঠন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন দলের সিনিয়র নেতারা। এমনকি, যুব মহিলা লীগ বিলুপ্ত করার পরামর্শও দেওয়া হয়।

সূত্র আরও জানায়, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আইন বহির্ভূত কাজের সাথে যারা জড়িত আছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবো আমি।"

আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই যুব মহিলা লীগের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নুর পাপিয়ার গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত উপযুক্ত কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


আরও পড়ুন - ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই পাপিয়াকে গ্রেফতার’ 


এদিকে এসব বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে নাজমা আখতার ও অপু উকিল ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে দলের কাউন্সিলের সম্ভাব্য তারিখ জানতে চেয়েছেন তারা।

নাজমা ও অপু আরও জানান, বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে দলের ভেতর পাপিয়ার মতো অপরাধের সাথে যুক্ত আরও কেউ আছে কিনা তা খুঁজে বের করতে বলেছেন। 

তবে, গণভবন সূত্রে জানা যায়, যুব মহিলা লীগের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিশেষ খুশি হননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন যুব মহিলা লীগের নেতৃবৃন্দ।  

বৈঠক প্রসঙ্গে যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি ডেইজি সরোয়ার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিষদ আলোচনা করা হয় বৈঠকে। দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আমাদের সংগঠনে পাপিয়ার মতো কাউকে প্রয়োজন নেই।"  

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি জাল নোট তৈরির সঙ্গে জড়িত চক্রের ৪ সদস্যকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে র্যািব। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন দেশের জাল নোট উদ্ধার করা হয়।

র্যা ব-১ এর কমান্ডিং অফিসার সংবাদ সম্মেলনে জানান, জাল নোট তৈরির সঙ্গে জড়িত চক্রের মূল হোতা শামীমা নুর পাপিয়া। তার তত্ত্বাবধানেই দেশে বিভিন্ন দেশের জাল মুদ্রা আনা হতো। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও দেহ ব্যবসার সাথে পাপিয়া জড়িত বলেও জানান তিনি। পরে গ্রেফতার করা হয় পাপিয়াকে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে নাজমা-অপু যুগলের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে যুব মহিলা লীগ। ২০১৪ সালের ৫ মার্চ দলটির প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে নাজমাকে সভাপতি ও অপুকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চলতি বছরের মার্চে বর্তমান কমিটির মেয়ার শেষ হওয়ার কথা।