আওয়ামী লীগ: কুমিল্লার মেয়র প্রার্থী রিফাতের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’

ক্ষমতাসীন দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ স্বপন বলেন, একাধিক সরকারি সংস্থা গভীরভাবে তদন্তের পর রিফাতের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ মিথ্যা বলে জানিয়েছে

২০১২ সালের পর প্রথমবারের মতো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য স্থানীয় রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ আফজাল খানের পরিবারের বাইরের কাউকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

বিএনপি সমর্থিত দুইবারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর জয়ের ধারা ভাঙতে পারবেন এই বিশ্বাস থেকে স্থানীয় রাজনীতিতে অবদান বিবেচনায় আরফানুল হক রিফাতকে মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।

ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য আ. ক. ম. বাহাউদ্দিন বাহারের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত রিফাত ২০১৭ সাল থেকে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি ১৯৭৬ সালে ছাত্রলীগে যোগ দেন এবং দুই বছর পর কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি হন। পরে তিনি যুবলীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

গত ১৩ মে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরফানুল হক  রিফাতকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পরে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে। তাদের অভিযোগ, রিফাত দীর্ঘদিন ধরে মাদক এবং অস্ত্র চোরাচালানে জড়িত। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে পেশীশক্তি ব্যবহার করে টেন্ডারবাজি এবং গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। রিফাতকে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য তারা সংসদ সদস্য বাহারকে দায়ী করেন।

এরপর দুটি জাতীয় দৈনিকে ২০১৮ সালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি তথাকথিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তাকে “জেলার মাদক কারবারীদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক” হিসেবে সরকারি তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

একই দিনে আরফানুল হক রিফাত একটি পত্রিকায় বিবৃতি পাঠিয়ে “মিথ্যা প্রতিবেদন”  প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষকে ক্ষমা চাইতে বলেন।

গত ১৭ মে একটি পত্রিকার প্রকাশক ও দুই প্রতিবেদকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানির মামলা করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, “রিফাত একজন পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ। তিনি রাজপথে অনেক সংগ্রাম করেছেন। আমি মনে করি, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনটি স্থানীয় রাজনীতির কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।”

তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নয়, একটি সরকারি সংস্থা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছিল।”

“পরে বেশ কয়েকটি সরকারি সংস্থা এই প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গভীরভাবে তদন্ত করেছে, কিন্তু তারা রিফাতের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ খুঁজে পায়নি” বলেন সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।



এদিকে ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে রিফাত দাবি করেন, কুমিল্লার শীর্ষ মাদক চোরাকারবারি ও ডিলারদের তালিকায় তার নাম থাকার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, "আমি এই তালিকা সম্পর্কে কিছুই জানি না, এটিও দেখিনি।"

তিনি বলেন, “আমার নেত্রী ও দল আমার অবদান বিবেচনা করে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমার বিশ্বাস কুমিল্লার ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করবেন।”

যাচাই-বাছাই শেষে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ১৫ জুন অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে রিফাতসহ ছয় মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশগ্রহণকারী মেয়র প্রার্থীরা

বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু এবং কুমিল্লা নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার  স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে গত ১৯ মে দল থেকে পদত্যাগ করেন। আট মামলার আসামি ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন কায়সার দলটির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকও ছিলেন।

২০১২ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক আফজাল খানের বিরুদ্ধে ৩৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন সাক্কু। ২০১৭ সালের নির্বাচনে তিনি আফজাল খানের মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমার বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান তিনি।

সীমা পরে একটি সংরক্ষিত আসন থেকে সংসদ সদস্য মনোনীত হন। এ বছর মেয়র পদে মনোনয়ন পেলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে জানালেও তাকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।

তবে তার ভাই মাসুদ পারভেজ ইমরান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি একজন ঠিকাদার এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দুটি মামলা রয়েছে।

নির্বাচনী নথি থেকে জানা যায়, আরফানুল হক রিফাত পেশায় একজন ঠিকাদার। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কামরুল আহসান বাবুল একজন ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অপর প্রার্থী হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত কলেজ শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম।

ADVERTISEMENT

×